• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪০ অপরাহ্ন
Headline
ইসরায়েলে সরকার গড়ার মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে না কেউ, কে হবেন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে হেরে গোপনে ব্রাজিল ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে গেলেন ফ্লাভিও বলসোনারো সরকার গড়ার মতো আসন না পেয়েও কি ক্ষমতায় থাকছেন নেতানিয়াহু পদুচেরি উপকূলে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, পূর্ব ভারতে ভারী বৃষ্টি এতদিন ভুল করেছি, দর্শকদের কাছে ক্ষমা চাইল সার্বিয়ান টিভি আটক ৩৭ খনিশ্রমিকের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে তদন্তে যা জানা গেলো পোশাক রপ্তানিতে মৌলিক ৩ পণ্যের আধিপত্য ৮০ শতাংশ কক্সবাজারে নকল ব্যান্ডরোলের সাড়ে ৪ লাখ সিগারেট জব্দ গ্লোবাল ফাইন্যান্সের সেরা ডিজিটাল ব্যাংক পুরস্কার পেয়েছে এমটিবি গ্যাসসংযোগ , বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও নিরাপত্তা সংকটে মুখ থুবড়ে পড়েছে সিলেট হাই-টেক পার্ক

সরকার জুন পর্যন্ত রপ্তানি প্রণোদনার অর্থ পরিশোধ করলেও পরের তিন মাসের পাওনা বকেয়া

Reporter Name / ৩ Time View
Update : বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬

প্রভাত অর্থনীতি: বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক জারিকৃত সর্বশেষ নীতিমালা অনুযায়ী (২০২৬-২৭ অর্থবছরেও বহাল থাকা), দেশের মোট ৪৩টি রপ্তানি খাতে ০.৩০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত নগদ প্রণোদনা বা সহায়তা দেয়া হচ্ছে। নগদ সহায়তার সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী হলো তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাত। তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য ৫ % প্রণোদনা দেয়া হয়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ নীতিমালা অনুযায়ী—যা ২০২৬-২৭ অর্থবছরেও বহাল রয়েছে—দেশের মোট ৪৩টি খাতের রপ্তানিকারকরা ০.৩০ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত নগদ প্রণোদনা পাওয়ার যোগ্য।
নগদ সহায়তার সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী হলো তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাত। পোশাক রপ্তানিকারকদের জন্য ৫ শতাংশ প্রণোদনা দেয়া হয়।
আওয়ামী লীগ সরকার ২০২৪ সালে দুই দফায় রপ্তানি প্রণোদনা কমায়। তখন বলা হয়, ২০২৬ সালে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বেরিয়ে উন্নয়নশীল দেশ হবে।
বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) বিধিবিধান অনুসারে, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর কোনো ধরনের রপ্তানি প্রণোদনা বা নগদ সহায়তা দেয়া যায় না। এলডিসি থেকে উত্তরণের পর একবারে সহায়তা প্রত্যাহার করা হলে রপ্তানি খাত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। তাই ধাপে ধাপে সহায়তা কমানোর সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।
সরকার জুন পর্যন্ত রপ্তানি প্রণোদনার অর্থ পরিশোধ করলেও পরের তিন মাসের পাওনা বকেয়া রয়ে গেছে। এর ফলে যেসব রপ্তানিকারকদের ব্যবসা সচল রাখতে ও নতুন বিনিয়োগের পরিকল্পনার জন্য এই সহায়তার ওপর নির্ভর করেন, তাদের ওপর আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে।
রেমিট্যান্সের ২.৫ শতাংশ প্রণোদন ব্যাংক নিজস্ব তহবিল থেকে প্রেরকদের দিলেও রপ্তানির ক্ষেত্রে তেমনটা হয় না। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে সরকার থেকে প্রণোদনার অর্থ ছাড় পাওয়ার পর রপ্তানিকারকদের দেয়া হয়।
রপ্তানিকারকরা বলছেন, অর্থ ছাড়ে এই বিলম্বের কারণে প্রণোদনা দেয়ার মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে ভারত ও ভিয়েতনামের মতো প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা পিছিয়ে পড়ছেন। ওইসব দেশে রপ্তানি প্রণোদনা যেমন বেশি দেয়া হয়, তেমনি তাদের অর্থও দ্রুত পরিশোধ করা হয়।
বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) পরিচালক এবং সাউদার্ন নিটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইমরান কাদের তূর্য জানান, প্রতিযোগী দেশগুলো তাদের রপ্তানিকারকদের অনেক বেশি সুবিধা দেয়। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ভারত, ভিয়েতনামের রপ্তানিকারকরা সময়মতো প্রণোদনার অর্থ পেয়ে যায়। তাতে ব্যবসা বড় করা কিংবা নতুন বিনিয়োগ করায় এক ধরনের সুযোগ পান তারা।’ তিনি আরও জানান, বাংলাদেশে রপ্তানিকারকরা সরকারি সহায়তা কবে পাবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় থাকেন। ফলে তাদের বাজেট তৈরি, বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত ও ব্যবসা সম্প্রসারণের কাজ পিছিয়ে যায়। তূর্য বলেন, রপ্তানিকারকরা সারা বছর নিয়মিত প্রণোদনার অর্থ না পেয়ে সাধারণত দুই ঈদের আশপাশে তা পেয়ে থাকেন। ‘তবে এটা তো হওয়া উচিত নয়, মাসের প্রণোদনার অর্থ মাসেই সরকার থেকে ছাড় দেয়া উচিত। অন্তত মাসে ৬০ শতাংশ প্রণোদনা ছাড় করলেও, প্রণোদনার অর্থের উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত হয়,’ বলেন তিনি।
বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম গণমাধ্যমকে জানান, পণ্য জাহাজীকরণের পর প্রণোদনার অর্থ হাতে পেতে রপ্তানিকারকদের সাধারণত প্রায় ১৮ মাস সময় লেগে যায়। রপ্তানি আয় দেশে আসার পর রপ্তানিকারকরা প্রণোদনার জন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকে আবেদন করেন। এরপর ব্যাংক সেটি অডিট ফার্মে পাঠায়, অডিট ফার্ম যাচাই-বাছাই করে সনদ দেয়। সেখান থেকে সনদ বাণিজ্যিক ব্যাংকে আসার পর তা বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো হয়। হাতেম জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকে নথিপত্র পাঠানোর এই প্রক্রিয়াতেই প্রায় এক বছর লেগে যেতে পারে। অন্যদিকে পণ্য জাহাজীকরণের পর রপ্তানি আয় দেশে আসতে সময় লাগে প্রায় ছয় মাস। ‘অর্থাৎ পুরো প্রক্রিয়া শেষ করে অর্থ পেতে দেড় বছর সময় লেগে যায়,’ বলেন তিনি।
হাতেম জানান, আগে এই অপেক্ষার সময় দুই বছর পর্যন্ত দীর্ঘ হতো। এখন সময় কিছুটা কমলেও এই বিলম্বের কারণে ব্যবসায়িক পরিকল্পনা এখনো ব্যাহত হচ্ছে।
তিনি বলেন, একসময় বকেয়ার পরিমাণ ৫ হাজার কোটি টাকা ছিল। তবে সরকার প্রণোদনার পরিমাণ কমিয়ে দেয়ার কারণে বকেয়ার পরিমাণ আগের চেয়ে কমেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সিটি ব্যাংকের বকেয়া রয়েছে ১১২ কোটি টাকা, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ৩২.৪৫ কোটি টাকা, ইসলামি ব্যাংক বাংলাদেশের ৯৮ কোটি টাকা, ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ৩৩.৮৬ কোটি টাকা ও ইস্টার্ন ব্যাংকের বকেয়া ১০০ কোটি টাকা।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category