• মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:১২ পূর্বাহ্ন
Headline
২ কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে দিন-দুপুরে চট্টগ্রামে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে সশস্ত্র হামলা একটি দল জনগণের বিপক্ষে ছিল, তাদের রাজাকার বলা হয় : সুলতান সালাউদ্দিন ফ্যাসিবাদী সরকার মসজিদের নামে যা করেছে, সেটা গর্হিত কাজ: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পানির চাপে সড়ক ধস, গুলশান-শাহজাদপুর লিংক রোডে যান চলাচলে বিঘ্ন আদ্-দ্বীন হাসপাতাল পুনরায় পরিদর্শন করে সিদ্ধান্ত: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাংলাদেশ হবে ‘ডিস্যাবিলিটি ইনক্লুসিভ সোসাইটি’র রোল মডেল: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ভিড়বে ৪ গুণ বড় জাহাজ, মাইলফলক স্পর্শ করতে যাচ্ছে মাতারবাড়ী সমুদ্রবন্দর টাকা নিয়েও ‘টিকিট দেয়নি’ ফ্লাইট এক্সপার্ট, ৩৫ কোটি টাকার মানিলন্ডারিং মামলা ‘মিলন সাহেব এত অভিশাপ কই রাখবেন’, প্রশ্ন এইচএসসি পরীক্ষার্থীর ঢাকার জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ পলিথিন

২ কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে দিন-দুপুরে চট্টগ্রামে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে সশস্ত্র হামলা

Reporter Name / ৪১ Time View
Update : সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬

প্রভাত সংবাদদাতা, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম নগরে ২ কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে দিন-দুপুরে একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও ৩৫ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নগরের চকবাজার থানার চন্দনপুরা-বাকলিয়া এক্সেস সড়কে অবস্থিত ডিজিটাল ডট নেট (ডিডিএন) কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের দাবি, বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারীরা এ হামলায় জড়িত। তাঁদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
প্রতিষ্ঠানের মালিক আদিল বিন মামুন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘দুই দিন আগে বিদেশি একটি নম্বর থেকে ফোন করে ডেভিড ইমন (মোবারক হোসেন ইমন) পরিচয়ে আমার কাছে ফোন আসে। এতে ইমন বলেন, ‘ব্যবসা করতে হলে এককালীন ২ কোটি টাকা দিবি। মাসে দিবি ১০ লাখ।’ এখন থেকে ব্যবসা আমরা করব।
আদিল বিন মামুন অভিযোগ করেন, চাঁদা না দেওয়ায় তারা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। ইমন বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারী বলে দাবি করেন তিনি।
আদিল বিন মামুন আরও বলেন, মুঠোফোনে কথোপকথনের সময় ডেভিড ইমন নিজেকে সবাই চেনে বলে দাবি করেন। এমনকি তাঁর ছবি পুলিশ কমিশনারকে দেখিয়ে চিনে নিতে বলেন। স্মার্ট গ্রুপের মালিক মুজিবুর রহমানের বাসায় চাঁদা না পেয়ে গুলি করার ঘটনাও উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে আদিল বিন মামুন তাঁদের চেয়ে বড় ব্যবসায়ী হয়ে গেছেন কি না, সে প্রশ্নও তোলেন।
ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সশস্ত্র দল হঠাৎ ডিডিএনের কার্যালয়ে ঢুকে পড়ে। দেশীয় অস্ত্রধারী ওই ব্যক্তিরা অফিসের কম্পিউটার, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মুঠোফোন এবং বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন। একজনকে কুড়াল দিয়ে কম্পিউটার ও অন্যান্য সরঞ্জামে আঘাত করতে দেখা যায়। এ সময় তাঁরা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখান।
ঘটনার পর থেকে ওই এলাকার ইন্টারনেট ব্যবসায়ী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
ডিডিএনের পরিচালক রিদোয়ানুল কবির বলেন, হঠাৎ ১৫ থেকে ২০ জন অস্ত্রধারী ব্যক্তি অফিসে ঢুকে তাণ্ডব চালান। এ সময় কর্মচারীদের বেতন দেওয়ার জন্য রাখা ৩৫ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যান তাঁরা।
চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর হোসেন মামুন গণমাধ্যমকে বলেন, ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এর আগে গত ৯ মে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা না দিলে এক সাংবাদিককে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গুলি করার হুমকি দেওয়া হয়। মোবারক হোসেন ওরফে ইমন বিপ্লব দে পার্থ নামের ওই সাংবাদিককে এ হুমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন বিপ্লব দে পার্থ।
সোমবার যে প্রতিষ্ঠানে হামলা হয়েছে, তার পাশেই চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পুলিশি পাহারায় থাকা স্মার্ট গ্রুপের পরিচালক মুজিবুর রহমানের বাসা লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। অভিযোগ ছিল, কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারীরা এ হামলা চালান। এর আগে গত ২ জানুয়ারিও একই বাসায় গুলি করা হয়। তখন বাসার জানালার কাচ ও দরজায় গুলি লাগে। ওই ঘটনার পর থেকে বাসাটি পুলিশি পাহারায় ছিল। এরপরও আবার গুলির ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
মোবারক হোসেন ওরফে ইমন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার মো. মুসার ছেলে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ বাকলিয়া এলাকার জোড়া খুন এবং একই বছরের ২৩ মে রাতে নগরের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবর হত্যা মামলাসহ মোট সাতটি মামলার আসামি।
পুলিশের ভাষ্য, মোবারক হোসেন অন্তত ১৫ থেকে ২০টি আগ্নেয়াস্ত্র বহন করেছেন—এমন তথ্য তাদের কাছে রয়েছে। অস্ত্র ব্যবহারে তিনি দক্ষ। বাকলিয়ার জোড়া খুনের ঘটনায় সন্ত্রাসী ও মোটরসাইকেল ভাড়া করার দায়িত্বও তাঁর ছিল বলে পুলিশের দাবি।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের হয়ে বর্তমানে চট্টগ্রামে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন দুজন। তাঁদের একজন মোবারক হোসেন। এর আগে দেশে এই দলের নেতৃত্ব দিতেন সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ। তিনি বর্তমানে কারাগারে থাকায় মোবারক হোসেন ও মোহাম্মদ রায়হান দলটির নেতৃত্বে রয়েছেন। রায়হানের বিরুদ্ধেও চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে অন্তত আটটি মামলা রয়েছে।
পুলিশের দাবি, বড় সাজ্জাদের বাহিনীতে অন্তত ৫০ জন শুটার ও সহযোগী সক্রিয় রয়েছেন। মোহাম্মদ রায়হান ও মোবারক হোসেন তাঁর হয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে নিয়মিত চাঁদা দাবি করে আসছেন। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করলেও তাঁদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category