• বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৫২ পূর্বাহ্ন
Headline
নাজিরপুরের রাজলক্ষী মহাবিদ্যালয় বৃক্ষরোপণ ও মাদকবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত শরণখোলায় পিএফজির উদ্যোগে সম্প্রীতির বৃক্ষরোপণ তীব্র জ্বালানি সংকট: অর্থনীতির চাপ এসে পড়েছে শেয়ারবাজারে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের ৬০ শতাংশের উৎপাদন বন্ধ সংসদ অধিবেশন ঘিরে শেরেবাংলা নগর এলাকায় সভা-সমাবেশ ও অস্ত্র বহন নিষিদ্ধ বদলে গেলো আমদানি নীতির কাঠামো খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ শ্রমিক লীগ নেতা কাশেম রিমান্ডে বাদামতলীর অবৈধ পার্কিং উচ্ছেদে ডিএসসিসি প্রশাসকের নির্দেশ ভারতীয় আগ্রাসনের বিষয়ে আরও বেশি সজাগ থাকব : পানিসম্পদ মন্ত্রী ৬ দফা দাবিতে ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ করবে ১১ দলীয় ঐক্য

যুদ্ধ-বন্যার চাপ সংসারে, দুশ্চিন্তা মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের

Reporter Name / ৩২ Time View
Update : বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬

প্রভাত রিপোর্ট: রাজধানীর যাত্রাবাড়ী কাঁচাবাজারে কেনাকাটা করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী ইসমাইল পাটোয়ারি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে কোনো সংঘাত হলে আমাদের দেশে পণ্যের দাম বেড়ে যায়। ফলে আমদানিনির্ভর ভোজ্যতেল, ডাল, আটা-ময়দার মতো পণ্যগুলোর দাম এখনো চড়া। আবার দেশের ভেতরে একটু বৃষ্টি বা বন্যা হলেও একই কারণ দেখানো হয়। দেখুন, কয়েকদিনের ব্যবধানে সবজির দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে।’তিনি বলেন, আমাদের বেতন তো বাড়ে না। অথচ সংসারের খরচ মাস শেষে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে। বাজার করতে এলে হিসাব মেলাতেই পারি না। ইচ্ছে হলেও অনেক কিছু নিতে পারি না।
ইরান যুদ্ধের প্রভাব, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা ও দেশের সাম্প্রতিক বন্যা- সব মিলিয়ে চাপে পড়েছে সাধারণ মানুষের সংসার। এরই মধ্যে আমদানি পণ্যে বাড়তি চাপের পাশাপাশি বন্যার প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে কাঁচাবাজারেও। সবজি, মাছ ও ডিমসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী। ফলে অনেক পণ্যের দাম এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।
এ অবস্থায় মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোকে দৈনন্দিন ব্যয়ের হিসাব মেলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। নিত্যপণ্যের বাড়তি দামের কারণে অনেকেই বাধ্য হয়ে প্রতিদিনের বাজারের তালিকা ছোট করছেন। এর মধ্যে নতুন করে প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় তাদের দুশ্চিন্তা আরও বেড়েছে।
আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে দেশের অর্থনীতি আগে থেকেই চাপে ছিল। বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে দেশের অভ্যন্তরীণ পরিবহন ব্যয়েও। এর মধ্যে সাম্প্রতিক বন্যা দেশের উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন জেলায় বন্যা পরিস্থিতির এখনো তেমন উন্নতি হয়নি। বন্যায় এ পর্যন্ত অর্ধশতাধিক মানুষের প্রাণহানির পাশাপাশি কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে লক্ষাধিক হেক্টর জমির ফসল। বন্যার পানিতে মাছের খামার ও পুকুর ভেসে যাওয়ায় মৎস্য খাতে ক্ষতি হয়েছে ৪০৭ কোটি টাকার বেশি। প্রাণিসম্পদ খাতে ক্ষতির পরিমাণ ৮১ কোটি টাকার বেশি। সব মিলিয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। একই সঙ্গে সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় রাজধানীসহ দেশের বড় শহরে পণ্য পরিবহনেও বিঘ্ন ঘটছে।
এ অবস্থায় রাজধানীর শনিড় আখড়া-যাত্রাবাড়ী বাজারসহ একাধিক খুচরা ও পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা যায়, সরবরাহ সংকটে কয়েকদিনের ব্যবধানেই প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বেগুন ও করলা এখন বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে। শসা ও গাজরের দাম আগেই ১০০ টাকা ছাড়িয়েছে। আর কাঁচামরিচের দাম ছাড়িয়েছে ২০০ টাকা।
শুধু সবজিতেই সীমাবদ্ধ নেই এই ঊর্ধ্বগতি, মাছ, ডিম ও মুরগির দামও এখন সাধারণ পরিবারের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। বিভিন্ন জেলায় বন্যা ও ভারী বৃষ্টিতে বহু পুকুর ও ঘেরের মাছ ভেসে গেছে। ফলে বাজারে চাষের মাছের সরবরাহও আগের তুলনায় কমেছে। বাজারে সাধারণ মানুষের ভরসা রুই, কাতলা, পাঙাশ ও তেলাপিয়ার দাম কেজিতে ৩০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। মানভেদে রুই-কাতলা বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকায়, আর চাষের পাঙাশ-তেলাপিয়াও ২০০ থেকে ২২০ টাকার নিচে মিলছে না।
ফার্মের ডিমের দাম হুট করেই বেড়ে ডজনপ্রতি ১৩৫ থেকে ১৪৫ টাকায় ঠেকেছে। আর সাধারণ মানুষের প্রোটিনের অন্যতম উৎস ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১৮৫ থেকে ২০০ টাকায়, সোনালি মুরগির দাম ছুঁয়েছে ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা। অন্যদিকে কিছু ব্যবসায়ী বলছেন, এ বন্যার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব আরও ব্যাপক হতে পারে। শিগগির দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি না হলে সরবরাহ আরও বিঘ্নিত হবে।
যাত্রাবাড়ী আড়তের আলাউদ্দিন বলেন, বন্যাকবলিত জেলাগুলো থেকে পর্যাপ্ত পণ্য আসছে না। উত্তরাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলীয় জেলাগুলো থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে এবং বন্যার পানি পুরোপুরি না নামলে আগামী কয়েক সপ্তাহেও বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম। আবার আরও খারাপও হতে পারে।
এদিকে একই আশঙ্কা কৃষিবিদদেরও। তারাও দীর্ঘমেয়াদে বন্যার প্রভাব খাদ্যপণ্য, মাছ ও মুরগির ওপর পড়ার শঙ্কা করছেন। এছাড়াও তারা চালের বাজারে চাপ তৈরি হওয়ার শঙ্কা জানিয়েছেন, যা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম খান গণমাধ্যমকে বলেন, এখন পর্যন্ত প্রায় ১০ শতাংশ আউশ ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, আমনের বীজতলা ডুবে গেছে। এতে প্রায় ৩ লাখ টন চালের উৎপাদন কমতে পারে। আর আগস্টের মধ্যে আমনের বীজতলা পুনরায় তৈরি করা সম্ভব হলেও সরবরাহে কিছুটা চাপ তৈরি হতে পারে, কারণ তখন ক্ষতি আরও বাড়বে। অন্যদিকে, মাছের ঘের, হাঁস-মুরগির খামারের ক্ষতি হয়েছে। যার প্রভাব বাজারে পড়তে পারে। তবে কার্যকর বাজার ব্যবস্থাপনা ও নজরদারির মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব। সেজন্য সরকারকে আন্তরিক ও বাস্তবমুখী উদ্যোগ নিতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে বিনামূল্যে বীজ, চারাসহ অন্যান্য উপকরণ সহায়তা দিতে হবে।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category