• বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ০৭:১৮ অপরাহ্ন
Headline
অফিস থেকে অপহরণ করে ৫০ লাখ চাঁদা দাবি, গ্রেফতার ২ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ইনুর পক্ষে যুক্তিতর্ক শেষ পদ্মা ব্যারাজ নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত, একনেকে উপস্থাপন হবে: এ্যানি সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য হিসেবে শপথ নিলেন নুসরাত তাবাসসুম পরিবেশ রক্ষায় ডিসিদের ওপরই মূল ভরসা রাখছে সরকার: পরিবেশমন্ত্রী ১০ হাজার অস্ত্র উদ্ধারে ডিসিদের কঠোর নির্দেশ জেলেরাও পাবেন কৃষক কার্ড: মৎস্য প্রতিমন্ত্রী রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ‘সাংবাদিকতার জন্য নীতিমালা ও কোড অব কন্ডাক্ট দ্রুত করা হবে’ সার্কুলার অর্থনীতি বৈশ্বিক বাজারে অবস্থান শক্তিশালী করার পূর্বশর্ত : বাণিজ্যমন্ত্রী

কিশোরগঞ্জের হাওরে ২৫৯ কোটি টাকার ফসলহানি, ক্ষতিগ্রস্ত অর্ধলাখ কৃষক

Reporter Name / ৩৪ Time View
Update : বুধবার, ৬ মে, ২০২৬

প্রভাত সংবাদদাতা, কিশোরগঞ্জ: টানা বৃষ্টি ও উজানি ঢলে কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলসহ জেলার ১৩টি উপজেলায় ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র সামনে এসেছে। এখন পর্যন্ত জেলার প্রায় ১৩ হাজার ১২২ হেক্টর জমির ধান পানি নিচে রয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় ৫০ হাজার কৃষক। কৃষি বিভাগের হিসাবে, এ ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৫৯ কোটি টাকা। বুধবার (৬ মে) দুপুরে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে হাওরগুলোতে। এর মধ্যে ইটনা উপজেলায় ১১ হাজার ৫০টি পরিবারের ৩ হাজার ২৬১ হেক্টর জমি তলিয়ে প্রায় ৭৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। অষ্টগ্রামে ৯ হাজার ১৫০টি পরিবারের ২ হাজার ৭০৩ হেক্টর জমিতে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৬২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। তাড়াইলে ১ হাজার ২২৪ হেক্টর জমিতে ক্ষতি ২৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা, নিকলীতে ৯২৩ হেক্টরে ক্ষতি ২১ কোটি ৩৯ লাখ টাকা এবং করিমগঞ্জে ৮৩০ হেক্টরে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১৯ কোটি ২৩ লাখ টাকা।
এছাড়া মিঠামইনে ৬৯০ হেক্টরে ১৫ কোটি ৯৯ লাখ টাকা, কটিয়াদীতে ৫৮৫ হেক্টরে ১৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকা, সদর উপজেলায় ২৭৫ হেক্টরে ৬ কোটি ৩৭ লাখ টাকা, ভৈরবে ২১১ হেক্টরে ৪ কোটি ৮৮ লাখ টাকা এবং বাজিতপুরে ১৬২ হেক্টরে ৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। কুলিয়ারচরে ৬৫ হেক্টরে প্রায় ১৫ লাখ ৬৫ হাজার টাকা এবং হোসেনপুরে ৪৭ হেক্টরে প্রায় ৩ কোটি ১০ লাখ টাকার ফসলহানি হয়েছে।
তবে স্থানীয়দের দাবি, প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ সরকারি হিসাবের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি। অনেক কৃষকের অভিযোগ, প্রাথমিক জরিপে সব ক্ষয়ক্ষতির তথ্য উঠে আসেনি। স্থানীয়দের মতে, হাওরে অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ, পানি নিষ্কাশনের পথ পলি জমে বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং অধিকাংশ জলকপাট (স্লুইসগেট) অকেজো থাকায় বৃষ্টির পানি নামতে পারেনি। এতে বন্যা ছাড়াই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে হাজার হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান তলিয়ে গেছে।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার স্বাভাবিক সময়েই হাওরে পানি প্রবেশ করলেও বৃষ্টির পানিতে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। একই সঙ্গে ডিজেল সংকট ও পর্যাপ্ত শ্রমিকের অভাবে সময়মতো ধান কাটতে পারেননি অনেক কৃষক। অন্যান্য বছর বিভিন্ন জেলা থেকে শ্রমিক এলেও এবার হার্ভেস্টারের ওপর নির্ভরতা বাড়ায় শ্রমিক কম এসেছে। এছাড়া জমিতে পানি থাকায় অনেক জায়গায় হার্ভেস্টারও ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে হাওর থেকে পানি দেরিতে নামায় বীজতলা প্রস্তুত ও রোপণেও বিলম্ব হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ উৎপাদনে প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান জানান, ৪ মে পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী এই হিসাব করা হয়েছে। এরপরেও প্রায় দেড় হাজার হেক্টর বোরো ধান নতুন করে পানিতে তলিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category