• রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৫ পূর্বাহ্ন
Headline
হোমনায় ডাকাত সন্দেহে গ্রেপ্তার, মুক্তির দাবিতে সড়ক অবরোধ রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে দেয়া কালি মুছে ভাইরাল রিকশাচালক সুপারিশকৃত বিচারকদের হবে ডোপ টেস্ট, বেঁধে দেয়া হলো সময় ভোটারের হাতের কালি শুকানোর আগেই ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন করা হয়েছে: শামা ওবায়েদ ‘কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ১০০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে’: কৃষিমন্ত্রী এসএসসিতে ফেল করা শিক্ষার্থীদের ৩–৬ মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষা নেয়া হবে: মাহদী আমিন সিটি করপোরেশনের ৭৫টি ওয়ার্ডে ডিএসসিসির বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান দেশে চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত রয়েছে : খাদ্যমন্ত্রী ক্ষতিকর উপাদানে তৈরি নকল ও ভেজাল পণ্যে বাজার সয়লাব শিক্ষার্থীদের ফলাফলের পাশাপাশি পাঠদানের কার্যকারিতাও মূল্যায়ন করতে হবে : ববি হাজ্জাজ

দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে বড় দুর্গোৎসব পিরোজপুরে, রয়েছে ১৬০ প্রতিমা

Reporter Name / ১০ Time View
Update : শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬

প্রভাত সংবাদদাতা, পিরোজপুর: শুধু বরিশাল বিভাগের মধ্যে নয়, গোটা দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে বড় দুর্গা পূজার প্রস্তুতি চলছে পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়ার রাজ মন্দিরে। ভারতের আদলে টেরাকোটার তৈরি দেবী দুর্গার প্রতিমাসহ ১৬০টি প্রতিমা গড়তে শেষ মুহূর্তে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। এদিকে জেলার সাতটি উপজেলার ৪৬২টি পূজা মণ্ডপে বিশেষ নিরাপত্তা রাখার কথা জানিয়েছে জেলা পুলিশ।
দেশের অন্যতম বৃহৎ পূজা মণ্ডপ পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার গুলিসাখালী ইউনিয়নের কবুতরখালী গ্রামের ‘রাজ মন্দির’। আসন্ন দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে গত ছয় মাস ধরে ১৬০টি প্রতিমা প্রস্তুতের জন্য ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রায় ২০ জন শ্রমিক। এবার দুর্গোৎসবে ভারতের আদলে টেরাকোটার তৈরি প্রতিমা তৈরি করা হয়েছে। যা গোটা বাংলাদেশে এর আগে কখনো তৈরি হয়নি বলে জানান রাজ মন্দিরের আয়োজকরা। প্রতিমা তৈরির পাশাপাশি মন্দির প্রাঙ্গণে চলছে প্যান্ডেল, আলপনা ও সাজসজ্জার কাজ।
এদিকে আসন্ন দুর্গা পূজাকে কেন্দ্র করে জেলার ৪৬২টি পূজা মণ্ডপে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন পূজা মণ্ডপের আয়োজকরা। জেলার সাতটি উপজেলার এসব মণ্ডপে ব্যস্ত সময় পার করছেন কয়েক হাজার কারিগর ও শ্রমিক।
আয়োজকদের দাবি, এবার দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বড় দুর্গা পূজার আয়োজন হতে যাচ্ছে রাজ মন্দিরে। মন্দিরের বিশাল আঙিনাজুড়ে তৈরি করা হয়েছে প্যান্ডেল। সেখানে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে ১৬০টি দেব-দেবীর প্রতিমা। এছাড়াও পূজার পুরোটা সময় জুড়ে থাকবে বিনামূল্যে চিকিৎসা কেন্দ্রসহ নানা সেবামূলক কার্যক্রম। রাজ মন্দিরে প্রতিবছর ভারত, ইংল্যান্ড, নেপাল, আমেরিকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সনাতনীরা উপস্থিত হন। দুর্গা উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রায় তিন লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হয় এই রাজ মন্দিরে। এছাড়াও জেলার অন্যান্য পূজা মণ্ডপগুলোতেও চলছে শেষ মুহূর্তে প্রস্তুতি। প্রতিমা তৈরি কারিগররা বলছে কয়েকদিনের মধ্যেই শেষ হবে পুরো কাজ।
২০১০ সালে রাজ মন্দিরের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর ২০১৬ সালে ৪০টি প্রতিমা দিয়ে এ পূজার আয়োজন শুরু করেন সুদীপ-স্নিগ্ধা দম্পতি। তারা পার্শ্ববর্তী মোড়েলগঞ্জের একটি বড় পূজা দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজেদের বাড়িতে এই আয়োজন শুরু করেন। এরপর প্রতিবছরই বেড়েছে আয়োজনের পরিসর।
আয়োজকরা জানান, পূজায় শুধু ধর্মীয় আয়োজন নয়, সামাজিক কার্যক্রমও থাকবে। দর্শনার্থী মায়েদের জন্য থাকবে ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার। সেখানে প্রতিদিন স্যানিটারি প্যাড বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তা এবং অন্যান্য সমাজসেবামূলক কার্যক্রমও থাকবে।
লক্ষাধিক মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয় এই উৎসব। দুর্গাপূজাকে সব ধর্মের মানুষের মিলনক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরার পাশাপাশি সমাজের ইতিবাচক বিষয়গুলো মানুষের সামনে উপস্থাপনের চেষ্টা করার কথাও জানান রাজ মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা সুদীপ কুমার।
সরেজমিনে দেখা যায়, জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার গুলিসাখালী ইউনিয়নের কবুতরখালী গ্রামের ‘রাজ মন্দিরের’ আয়োজকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। মন্দির প্রাঙ্গণে চলছে প্যান্ডেল, প্রতিমা, আলপনা ও সাজসজ্জার কাজ। আয়োজকদের দাবি, এবার দক্ষিণ অঞ্চলের অন্যতম বড় দুর্গাপূজার আয়োজন হতে যাচ্ছে এখানে।
রাজ মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. সুদীপ কুমার হালদার বলেন, মন্দিরের বিশাল আঙিনাজুড়ে তৈরি করা হয়েছে প্যান্ডেল। সেখানে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে ১৬০টি দেব-দেবীর প্রতিমা। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষকে ইতিবাচক ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করতে দেশের গুণীজনদের ছবি ও বিভিন্ন উপদেশমূলক বাণীও টানানো হয়েছে গাছ ও আশপাশের এলাকায়। এ কারণে প্রতিবছর পূজাকে ঘিরে কবুতরখালীর হালদার বাড়িটি দর্শনার্থীদের অন্যতম আকর্ষণের জায়গায় পরিণত হয়। তিনি আরও বলেন, পূজার ৫ দিন দুপুর ১টা থেকে ৪টা পর্যন্ত যত ভক্ত ও দর্শনার্থী আসেন তাদেরকে আমরা আহারের ব্যবস্থা করি। পাশাপাশি আমরা কিছু সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক কার্যক্রম করে থাকি। এখানে দেশের বিভিন্ন জেলাসহ দেশের বাইরে থেকেও পর্যটক আসে এবং প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ মানুষের আগমন ঘটে।
এরই মধ্যে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অনেকে দেখতে আসছেন এই মণ্ডপের বিশেষত্ব। বরগুনা জেলা থেকে আসা তন্ময় মিত্র আনন্দ নামে এক পর্যটক বলেন, প্রতি বছরের মতো এবছরও এসেছি এখনকার নতুন নতুন চিত্র দেখতে। এখানে প্রতি বছরই নতুন নতুন প্রতিমার আয়োজন করা হয়। এ বছর নতুন যে আকর্ষণ এটা দেখার জন্যই আগে এসেছি। যা দেখলাম খুব ভালোই লাগলো। পূজার সময় ফ্যামিলি নিয়ে আসবো। এখানে পূজার সময় লাখ লাখ লোক হয়।
প্রতিমা নির্মাণশিল্পী উজ্জ্বল বিশ্বাস গুরু বলেন, মন্দিরে দুই বছর ধরে কাজ করি। চার থেকে পাঁচ মাসের পরিশ্রমে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ করেছি। এত বড় আয়োজন আমার জানামতে আর কোথাও হচ্ছে না। বড় এই আয়োজনের সঙ্গে থাকতে পেরে আমি আনন্দিত।
রাজমন্দির কর্তৃপক্ষ ও সৈয়দ ফজলুল হক কলেজের সহকারী অধ্যাপক পলাশ চন্দ্র গাইন বলেন, আমাদের এ বছর ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন হতে যাচ্ছে। দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে একটি মহামিলনের স্থান হচ্ছে এই রাজমন্দির। এখানে লাখ লাখ ভক্তের উপস্থিতি হয় এবং মহা প্রসাদের ব্যবস্থা থাকে। গত বছর নয়া দিল্লি, কলকাতা, জাপান, চায়না, আমেরিকা ও ইংল্যান্ড থেকে পর্যটকরা এখানে এসে এ মন্দির সম্পর্কে নোটবুকে মন্তব্য করে গেছে, এজন্য আমরা ধন্য। আয়োজক আমার দাদা এবং বৌদির প্রতি কৃতার্থ।
রাজ মন্দিরের সেক্রেটারি সুমন হালদার বলেন, আমাদের এই পূজা মণ্ডপ দক্ষিণাঞ্চলের তথা বরিশাল বিভাগের মধ্যে সর্ববৃহৎ। এখানে পূজার এই পাঁচদিনে কয়েকলাখ মানুষের সমাগম ঘটে। এবারো আমরা সবাইকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।
পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, হিন্দু ধর্মবালম্বীদের বৃহত্তম ধর্মীয় শারদীয় উৎসব উপলক্ষে এরই মধ্যে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিভিন্ন মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ চলমান রয়েছে। এর বাইরেও পূজা চলাকালে আমাদের বিশেষ নিরাপত্তা থাকবে। প্রতিটি মণ্ডপ ঘিরে পৃথক নিরাপত্তা পরিকল্পনা রয়েছে। পুলিশের পোশাকের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও নিরাপত্তার জন্য সদস্যরা মোতায়েন থাকবে। উৎসবমূখরভাবে যেভাবে পূজা উদযাপিত হয় সেই লক্ষ্যে আমরা প্রস্তুত রয়েছি।
দুর্গা উৎসবকে ঘিরে পিরোজপুরের প্রতিটি উপজেলার পক্ষ থেকে নিরাপত্তা-ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ, আনসার, স্বেচ্ছাসেবকসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মন্দির ও আশপাশের এলাকায় দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category