প্রভাত রিপোর্ট: আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ঢাকার সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে শুরু হয়েছে ঈদযাত্রার প্রস্তুতি। তবে এখনো টার্মিনালজুড়ে তেমন যাত্রীচাপ দেখা যায়নি। দক্ষিণাঞ্চলগামী অধিকাংশ লঞ্চ শনিবার (২৩ মে) সকাল পর্যন্ত অনেকটাই ফাঁকা ছিল। যদিও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে। শেষ অফিস দিবসের পর থেকেই ঘরমুখো মানুষের ঢল নামবে নদীপথে। শনিবার সকালে সরেজমিনে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ঘুরে দেখা যায়, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, চাঁদপুর ও মুন্সিগঞ্জ রুটের বিভিন্ন টিকিট কাউন্টারে তুলনামূলক কম ভিড় রয়েছে। লঞ্চঘাট এলাকায় যাত্রীদের স্বাভাবিক চলাচল থাকলেও ঈদকে কেন্দ্র করে সাধারণত যেরকম চাপ তৈরি হয়, তার খুব কম উপস্থিতি দেখা গেছে।
তবে পুরো টার্মিনালজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রস্তুতি স্পষ্ট ছিল। বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশ সদস্যদের অবস্থান, যাত্রীদের চলাচল পর্যবেক্ষণ এবং ঘাট এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে মুন্সিগঞ্জ ও চাঁদপুর রুটের ঘাট এলাকায় পুলিশের তৎপরতা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।
শুক্রবার (২২ মে) রাতেও সদরঘাট টার্মিনাল ঘুরে যায়, দক্ষিণাঞ্চলগামী অধিকাংশ লঞ্চে যাত্রী কম ছিল। তবে চাঁদপুর ও মুন্সিগঞ্জ রুটের লঞ্চগুলোতে কিছুটা চাপ লক্ষ্য করা যায়। অনেক যাত্রী পরিবার নিয়ে আগেভাগেই গ্রামের উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন, যাতে শেষ মুহূর্তের ভোগান্তি এড়ানো যায়।
লঞ্চ টার্মিনালের প্রধান ফটকে প্রবেশের টিকিট পরিদর্শকের দায়িত্বে থাকা আশরাফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, শুক্রবার রাতেও তেমন ভিড় ছিল না। আজ সকাল পর্যন্তও যাত্রীচাপ কম। তবে আমরা ধারণা করছি, আগামীকাল থেকে ভিড় বাড়তে পারে। বিশেষ করে রাতের লঞ্চগুলোতে যাত্রী বেশি হবে।’
ফারহান-৯ লঞ্চের পরিচালক মো. হুমায়ুন কবির গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এখনো প্রত্যাশিত যাত্রী হয়নি। তবে রাতের ট্রিপগুলোতে চাপ বাড়বে বলে আশা করছি। ঈদের আগের দুই-একদিনে পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে যাবে।’ অপরদিকে বরিশালগামী বেশ কয়েকটি লঞ্চ ঘাট প্রায় ফাঁকাই পড়ে থাকতে দেখা গেছে। কেবিন ও ডেক, দুই জায়গাতেই যাত্রীসংখ্যা তুলনামূলক কম ছিল। যদিও এসব লঞ্চ রাতে ছাড়বে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নদীপথের অনেক যাত্রী শেষ মুহূর্তে যাত্রা করেন। ফলে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সদরঘাটে প্রকৃত চাপ শুরু হতে পারে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) জানিয়েছে, এবারের ঈদযাত্রায় নদীপথে প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ যাত্রী চলাচল করতে পারেন। সেই চাপ সামাল দিতে প্রায় ১৭৫টি লঞ্চ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নিয়মিত চলাচলকারী লঞ্চের পাশাপাশি অতিরিক্ত কিছু লঞ্চও বিশেষ সার্ভিস হিসেবে চালানো হবে।
বিআইডব্লিউটিএর ঢাকা নদীবন্দর সদরঘাটের নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের যুগ্ম-পরিচালক মুহম্মদ মোবারক হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় এবার আরও বেশি প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ২১ মে থেকে ধাপে ধাপে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ২৪ মে’র পর থেকেই যাত্রীচাপ পুরোপুরি বাড়বে বলে ধারণা করছি। যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাত্রা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। তিনি বলেন, ‘ফিটনেসবিহীন কোনো লঞ্চ চলাচল করতে দেওয়া হবে না। প্রতিটি লঞ্চের কাগজপত্র, লাইফ জ্যাকেট, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা সরঞ্জাম পরীক্ষা করা হচ্ছে।
ঈদযাত্রা নিরাপদ রাখতে ২১ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত সদরঘাট ও আশপাশের নদীপথে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু থাকার কথা জানিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ। র্যাব, নৌ-পুলিশ, কোস্টগার্ড, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথভাবে দায়িত্ব পালন করছে। ঘাট এলাকায় বাড়তি নজরদারির পাশাপাশি নদীতেও টহল জোরদার করা হয়েছে।
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপ-কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও সদস্য মোতায়েন রয়েছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।