প্রভাত স্পোর্টস: যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘প্রতিশোধমূলক আচরণের’ অভিযোগ তুলেছে ইরানের ফুটবল ফেডারেশন (এফএফআইআরআই)। সংস্থাটির দাবি, বিশ্বকাপে ইরান দলের ‘প্রধান বেশ কয়েকজন ম্যানেজার ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে’ ভিসা দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। এ বিষয়ে ফিফার কাছে অভিযোগ জানাবে দেশটি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের তথ্য অনুযায়ী, আবেদন করেও যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাননি ইরান দলের ১৪ কর্মকর্তা ও স্টাফ। এর মধ্যে ইরান ফুটবল ফেডারেশনের মহাসচিব হেদায়েত মোম্বেইনি এবং সহসভাপতি মেহদি মোহাম্মদ নবী আছেন। তবে ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজের ভিসা হয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
তাজ ফুটবল ফেডারেশনে যোগ দেয়ার আগে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, আইআরজিসির সঙ্গে যুক্ত কাউকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
এবারের বিশ্বকাপে ইরানের গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রে। দুটি লস অ্যাঞ্জেলেসে, একটি সিয়াটলে। ফিফা ইরানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় বেজক্যাম্প নির্ধারণ করলেও পরে দলটির অনুরোধে তা মেক্সিকোয় সরিয়ে নেয়া হয়। গত ১৮ মে তুরস্কে অনুশীলন ক্যাম্প করে ইরান, সেখানে থেকেই মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা আবেদন করা হয়।
ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যেসব কর্মকর্তাকে ভিসা দেয়নি, তারা দলের সঙ্গে মেক্সিকোয় যাবেন। এর মধ্যে তাঁদের ভিসা পাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হবে। শনিবার মেক্সিকোর উদ্দেশে তুরস্ক ছেড়েছে ইরান দল।
ইরান ফেডারেশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দলের কিছু সদস্যকে ভিসা না দেয়ার এই সিদ্ধান্ত ‘কার্যত ইরান জাতীয় দলকে একটি বৈষম্যহীন ও সমান সুযোগের প্রতিযোগিতা থেকে বঞ্চিত করেছে’। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ফেডারেশন এই বিষয়টি বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার কাছে উত্থাপন করবে।
এদিকে তুরস্কের আঙ্কারায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম বারাক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট করে ইরান দলের ভিসা প্রসেস করার জন্য তাঁর দূতাবাসের কর্মীদের অভিনন্দন জানিয়েছিলেন।
এর জবাবে আঙ্কারার ইরানি দূতাবাস পাল্টা পোস্টে লেখে, ‘নিজেদের প্রশংসা করে আপনারা এমন এক আচরণকে ধামাচাপা দিতে পারেন না, যা ফিফার নিয়ম লঙ্ঘন করে এবং আয়োজক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের দায়বদ্ধতাকে ক্ষুণ্ন করে। এটি খেলাধুলার মধ্যে রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট হস্তক্ষেপের নিকৃষ্টতম উদাহরণ।’
যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তা শুক্রবার এবিসি নিউজকে জানান, ইরান দলের সব ফুটবলারের ভিসা অনুমোদন করা হয়েছে। তবে বার্তা সংস্থা এপিকে একজন মার্কিন কর্মকর্তা ইঙ্গিত দেন, ইরানের দলটির সঙ্গে যুক্ত কিছু আবেদনকারী ‘মিথ্যা অজুহাতে’ ভিসার আবেদন করায় তা বাতিল করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে জনসমক্ষে কথা বলার অনুমতি না থাকায় কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ তথ্য দিয়েছেন। এর আগে গত মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও উস অ্যাপ্রোপ্রিয়েশন সাবকমিটির শুনানিতে বলেছিলেন, ইরানের বিশ্বকাপ দলের মধ্যে আইআরজিসির সঙ্গে কারও কোনো সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা কড়া নজরে রাখা হবে, ‘ক্রীড়াজগতের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই এবং আইআরজিসির সঙ্গে যোগসূত্র আছে, এমন একদল মানুষকে বিশ্বকাপ দলের ভেতরে ঢুকিয়ে দিতে চাইলে আমরা তা কিছুতেই হতে দেব না।’
বিশ্বকাপে ‘জি’ গ্রুপে থাকা ইরান প্রথম ম্যাচ খেলবে ১৫ জুন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। অন্য দুটি ম্যাচ ২১ জুন বেলজিয়াম আর ২৬ জুন মিসরের বিপক্ষে।