• মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০৪:৪৬ অপরাহ্ন

বিশ্বকাপে অন্যতম ফেবারিট স্পেনকে রুখে দিলো কেপ ভার্দে

Reporter Name / ৬ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬

প্রভাত স্পোর্টস: ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে ২০০২ বিশ্বকাপে ১–০ গোলে হারিয়েছিল নবাগত সেনেগাল। ১৯৬৬ বিশ্বকাপে ইতালিকেও একই ব্যবধানে হারিয়েছিল উত্তর কোরিয়া। এমনকি চার বছর আগে সর্বশেষ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে চমকে দিয়েছিল সৌদি আরব।
স্পেন ০–০ কেপ ভার্দে—এই ম্যাচটি তেমন নয়। কিন্তু বিশ্বকাপে অভিষেক ম্যাচে অন্যতম ফেবারিট স্পেনের কাছ থেকে পয়েন্ট কেড়ে নেওয়াও চাট্টিখানি অর্জন নয়! কেপ ভার্দের এই দলটি যে বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার আগেই দেশে ‘জাতীয় বীরে’র মর্যাদা পাবেন, তা নিশ্চিত। আফ্রিকান অঞ্চলের বাছাইয়ে কেপ ভার্দে গ্রুপসেরা হয়েছে। ক্যামেরুনের মতো দলকে হারিয়েছে। জিতেছে অ্যাঙ্গোলা ও লিবিয়ার বিপক্ষেও।
কেপ ভার্দেকে সবাই এখন চিনবে। এমনটাই মনে করেন অস্ট্রেলিয়া, টটেনহাম হটস্পার ও নটিংহাম ফরেস্টের সাবেক কোচ অ্যাঞ্জে পোস্তেকোগলু, ‘ছোট্ট একটি দেশের মানুষ বুক ফুলিয়ে বলতে পারবে যে তারা কেপ ভার্দের নাগরিক, আর আজ সারা বিশ্বের প্রত্যেকেই তাদের এই নতুন পরিচয়কে এক নামে চিনে নিল।’ এটাই কি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বিখ্যাত ড্র? স্পেনের খেলোয়াড়দের মুখের দিকে তাকানো যাচ্ছে না! কেপ ভার্দের খেলোয়াড়দের চোখে অশ্রু। আহা! বিশ্বকাপের এই তো মজা!
এবার বিশ্বকাপে অন্যতম ফেবারিট ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে গোলশূন্য ব্যবধানে রুখে দিয়েছে বিশ্বকাপ ইতিহাসে জনসংখ্যার দিক থেকে দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ (৫ লাখ ২৫ হাজার) কেপ ভার্দে! সেটাও বিশ্বকাপে তাদের অভিষেক ম্যাচে!
কেপ ভার্দে গোলকিপার ভোজিনিয়ার চোখে অশ্রুর বান। দেশের ইতিহাসে অন্যতম সেরা উৎসবের এই লগ্ন নেমেছে তাঁর হাতে ভর করে। ৭টি দারুণ সেভ করেছেন ম্যাচে। তারকাখচিত স্পেন, সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন—৮০১টি পাস খেলেও ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ৬৪ তম কেপ ভার্দের জালে বল পাঠাতে পারেনি!
কেপ ভার্দে ৬টি শট নিতে পেরেছে। পোস্টে রাখতে পেরেছে মাত্র একটি। বেশির ভাগ সময়ই পাঁচজনের ব্যাকলাইন নিয়ে রক্ষণ সামলেছে। কখনো কখনো একজন মিডফিল্ডার নিচে নামিয়েও ছয়জন মিলে ডিফেন্স করেছে।
স্পেন যে চেষ্টা করেনি তা নয়, মরিয়া হয়েই খেলেছে। চোট থেকে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে না ওঠা লামিনে ইয়ামালকে বাধ্য হয়ে বদলি নামিয়েছে। ২৭টি শট নিয়ে পোস্টে রাখতে পেরেছে ৭টি। কিন্তু গোলটা আর পাওয়া হয়নি। বল পোস্টেও লেগেছে।
পুরো ম্যাচে গোলের সুযোগ কম বের করেনি স্পেন। কিন্তু প্রায় সময়ই কেপ ভার্দের বক্সে ঢুকে কিংবা তার সামনে মুখ থুবড়ে পড়েছে ফেরান তোরেস, দানি ওলমো, ইয়ামালদের আক্রমণভাগ। কারণ? বুক চিতিয়ে লড়েছে কেপ ভার্দে। স্পেনের বেশির ভাগ শটের সামনে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছেন কেপ ভার্দের ডিফেন্ডাররা। তখন মনে হয়নি দুই দলের মধ্যে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ৬১ ধাপের ব্যবধান! ম্যাচে ৭৪ শতাংশ বল ধরে রেখেছে স্পেন।
কেপ ভার্দের বিপক্ষে বদলি নেমে ১৮ বছর ৩৪২ দিন বয়সে বিশ্বকাপে অভিষেক হলো স্পেন তারকা লামিনে ইয়ামালের। কেপ ভার্দে গোলকিপার ভোজিনিয়ারও এই ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপে অভিষেক ঘটল ৪০ বছর ২২ দিন বয়সে। ভোজিনিয়া ও ইয়ামালের মধ্যে বয়সের ব্যবধান ২১ বছর ৪৫ দিন! বিশ্বকাপের ইতিহাসে ম্যাচে দুই প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের মধ্যে এটাই সবচেয়ে বেশি বয়সের ব্যবধান।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category