• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২৭ অপরাহ্ন
Headline
ইসরায়েলে সরকার গড়ার মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে না কেউ, কে হবেন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে হেরে গোপনে ব্রাজিল ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে গেলেন ফ্লাভিও বলসোনারো সরকার গড়ার মতো আসন না পেয়েও কি ক্ষমতায় থাকছেন নেতানিয়াহু পদুচেরি উপকূলে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, পূর্ব ভারতে ভারী বৃষ্টি এতদিন ভুল করেছি, দর্শকদের কাছে ক্ষমা চাইল সার্বিয়ান টিভি আটক ৩৭ খনিশ্রমিকের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে তদন্তে যা জানা গেলো পোশাক রপ্তানিতে মৌলিক ৩ পণ্যের আধিপত্য ৮০ শতাংশ কক্সবাজারে নকল ব্যান্ডরোলের সাড়ে ৪ লাখ সিগারেট জব্দ গ্লোবাল ফাইন্যান্সের সেরা ডিজিটাল ব্যাংক পুরস্কার পেয়েছে এমটিবি গ্যাসসংযোগ , বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও নিরাপত্তা সংকটে মুখ থুবড়ে পড়েছে সিলেট হাই-টেক পার্ক

জ্বালানি প্রযুক্তিতে নতুন শক্তি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, বাড়ছে বিনিয়োগের সম্ভাবনা

Reporter Name / ১৪ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬

প্রভাত ডেস্ক: বিশ্বের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি প্রযুক্তি উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া। সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল, বৈদ্যুতিক গাড়ি ও ব্যাটারি উৎপাদনে বাড়ছে বিনিয়োগ। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতির পরিবর্তন, অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের অনিশ্চয়তা এ অঞ্চলের শিল্পের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে সরবরাহব্যবস্থায় বৈচিত্র্য আনা এবং কার্যকর শিল্পনীতি গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) প্রকাশিত আইইএর এনার্জি টেকনোলজি সাপ্লাই চেইনস ইন সাউথইস্ট এশিয়া শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। সংস্থাটির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গত ২৫ বছরে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় জ্বালানির চাহিদা প্রায় ১৪০ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমান ঘোষিত নীতিগুলো কার্যকর থাকলে আগামী ১০ বছরে বৈশ্বিক জ্বালানি চাহিদা বৃদ্ধির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ আসবে এ অঞ্চল থেকে।
আইইএর পূর্বাভাস অনুযায়ী, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সৌরবিদ্যুৎ, ব্যাটারি, বৈদ্যুতিক গাড়ি, বায়ুবিদ্যুৎ সরঞ্জামসহ গুরুত্বপূর্ণ পরিচ্ছন্ন জ্বালানি প্রযুক্তির বাজার ২০২৫ সালে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
বর্তমান ঘোষিত নীতিগুলো বাস্তবায়িত হলে ২০৩৫ সালে এ বাজারের আকার ৮০ বিলিয়ন ডলারের বেশি হতে পারে। তবে বর্তমান নীতির ধারাবাহিকতা দুর্বল হলে বাজারটি প্রায় ৫৫ বিলিয়ন ডলারে সীমিত থাকতে পারে। এ বাজারের প্রবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখবে বৈদ্যুতিক গাড়ি ও ব্যাটারি। বিদ্যুতের ব্যবহার বৃদ্ধি, পরিবহন খাতে জ্বালানির পরিবর্তন এবং জীবাশ্ম জ্বালানির আমদানিনির্ভরতা কমানোর প্রচেষ্টা এ চাহিদা বাড়াচ্ছে। একসময় সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল উৎপাদনে বিশ্বে চীনের পরই দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া। তবে নতুন বিনিয়োগের ধীরগতি ও বৈশ্বিক বাণিজ্যনীতির পরিবর্তনে এ অবস্থানে চাপ তৈরি হয়েছে।
আইইএর তথ্য অনুযায়ী, এ অঞ্চলে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল উৎপাদনের সক্ষমতা ২০২৩ সালে ১০৬ গিগাওয়াট থাকলেও ২০২৫ সালে তা কমে প্রায় ৮২ গিগাওয়াটে নেমেছে। ২০৩০ সালে তা আরও কমে ৭২ গিগাওয়াট হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রপ্তানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এ খাতকে ঝুঁকিতে ফেলেছে। দেশটির শুল্ক ও বাণিজ্যনীতির পরিবর্তনের পাশাপাশি বিশ্ববাজারে উৎপাদন সক্ষমতা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি থাকায় বিনিয়োগও কমেছে।
সৌরবিদ্যুৎ খাতে চাপ তৈরি হলেও বৈদ্যুতিক গাড়ি ও ব্যাটারি উৎপাদনে নতুন সম্ভাবনা দেখছে আইইএ। সংস্থাটির হিসাবে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বৈদ্যুতিক গাড়ি উৎপাদনের সক্ষমতা ২০২৫ সালে প্রায় ১০ লাখ ছিল। ঘোষিত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে ২০৩০ সালে তা বেড়ে ১৮ লাখে পৌঁছাতে পারে। বর্তমানে এ অঞ্চলের বৈদ্যুতিক গাড়ি উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় অর্ধেক চীনা প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে। ২০৩০ সাল পর্যন্ত পরিকল্পিত নতুন সক্ষমতার ৭০ শতাংশের বেশি চীনা প্রতিষ্ঠানের হতে পারে। ব্যাটারি উৎপাদনেও বিনিয়োগ বাড়ছে। ২০২৫ সালে এ অঞ্চলে ব্যাটারি সেল উৎপাদনের স্থাপিত সক্ষমতা ছিল প্রায় ৪০ গিগাওয়াট-ঘণ্টা। ঘোষিত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে ২০৩০ সালে তা ১০০ গিগাওয়াট-ঘণ্টা ছাড়াতে পারে। ২০৩৫ সালে বর্তমান ঘোষিত নীতির দৃশ্যপটে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি উৎপাদন ৩০০ গিগাওয়াট-ঘণ্টা ছাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
পরিচ্ছন্ন জ্বালানি প্রযুক্তি উৎপাদনে বিদেশি বিনিয়োগ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম শক্তি। আইইএর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত এ অঞ্চলের পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তি উৎপাদন খাতে মোট বিদেশি বিনিয়োগের প্রায় ৩০ শতাংশ এসেছে চীন থেকে। ২০২৫ সালে প্রকল্পভিত্তিক হিসাবে এ অঞ্চলে চীনের বিনিয়োগ ছিল প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার। ২০২৩ সালে এ বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ৩১ বিলিয়ন ডলার।
চীনা বিনিয়োগ প্রযুক্তি হস্তান্তর, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান তৈরিতে ভূমিকা রাখছে। তবে কোনো একটি দেশ বা বাজারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা সরবরাহব্যবস্থাকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। এ কারণে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে অংশীদারত্ব গড়ে তোলা এবং নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে আইইএ।
এদিকে, বার্তা সংস্থা রয়টার্সের ২৭ অক্টোবরের প্রতিবেদনে আইইএর নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল পরিচ্ছন্ন জ্বালানি প্রযুক্তির সরবরাহব্যবস্থা অল্প কয়েকটি দেশের হাতে কেন্দ্রীভূত থাকার ঝুঁকির কথা তুলে ধরেছেন। তার মতে, দ্রুত বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জন্য জ্বালানি নিরাপত্তা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
আইইএর মতে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোকে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের পাশাপাশি স্থানীয় শিল্প, দক্ষ জনশক্তি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে। উৎপাদন খরচে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা কাজে লাগানো এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের ব্যবহার বাড়ানোও এ ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।
সংস্থাটির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দেশগুলো ঘোষিত শিল্পনীতি বাস্তবায়নে সফল হলে ২০২৫ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে এ অঞ্চলে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি প্রযুক্তি উৎপাদনে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ বর্তমান ঘোষিত নীতির দৃশ্যপটের তুলনায় প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলার বেশি হতে পারে। এ বাড়তি বিনিয়োগের বড় অংশ আসতে পারে ব্যাটারি ও সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তির সরবরাহব্যবস্থা থেকে।
আইইএর মূল্যায়ন অনুযায়ী, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সামনে এখন দ্বিমুখী সুযোগ-একদিকে জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা কমানো, অন্যদিকে পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তি উৎপাদনের মাধ্যমে নতুন শিল্প ও রপ্তানি বাজার তৈরি করা। এ সুযোগ কাজে লাগাতে হলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, নির্ভরযোগ্য বাণিজ্যতথ্য এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সমন্বয় প্রয়োজন। তথ্যসূত্র: আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ), রয়টার্স।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category