মো. নুরুল আমিন, ত্রিশাল: মাথার ওপর ভাঙা চাল, তার ওপর বৃষ্টির দিনে অনবরত টপটপ করে পানি ঝরার কষ্ট। সেই পানির মধ্যেই কোনোমতে রাত কাটান ময়মনসিংহের ত্রিশাল পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কেরানি বাড়ি মোড় এলাকার বাসিন্দা সমেলা খাতুন (ওরফে সবুজের মা) । বয়সের ভারে নিজে অসুস্থ, অথচ এই বয়সেও তাকে আগলে রাখতে হচ্ছে পরিবারের অন্য সদস্য ও নাতি-নাতনিদের। জীবনের এই চরম কষ্টে টিকে থাকতে তিনি সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে সরকারের কাছে একটি টেকসই ঘর ও ফ্যামিলি কার্ডের আকুল আবেদন জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩০ বছর আগে সমেলা খাতুনের স্বামী সুরুজ আলী মৃত্যুবরণ করেন। স্বামীর মৃত্যুর পর তিন ছেলে ও দুই মেয়েকে নিয়ে চরম কষ্টের মধ্যে কেটেছে তার জীবন। বড় ছেলে সবুজ মিয়াও প্রায় দশ বছর আগে মারা যান। অন্য ছেলে-মেয়েরা বেঁচে থাকলেও তারা নিজেরাও অভাব-অনটনে দিন কাটাচ্ছেন। ফলে মায়ের ভরণপোষণের খরচ জোগানো তাদের পক্ষে সম্ভব হয়ে ওঠে না। বর্তমানে সমেলা খাতুনকে শুধু নিজের পেট চালাতেই সংগ্রাম করতে হয় না, বরং বড় ছেলে সবুজের রেখে যাওয়া এতিম মেয়েদের দেখাশোনাও করতে হয় তাকে। পাশাপাশি সেবা-যতœ করতে হয় তার শতবর্ষী বৃদ্ধা শাশুড়িকেও।
ইতিমধ্যে বয়স্ক ভাতা ও বিধবা ভাতার জন্য আবেদন করলেও এখন পর্যন্ত কোনো সুফল পাননি এই বৃদ্ধা। এছাড়া তার ভিটেমাটির কিছু সামান্য জমি দেখে অনেক সময় মানবিক সহযোগিতা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন কেউ তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেনি । অথচ জরাজীর্ণ ঘরের কারণে পরিবার নিয়ে বসবাস করা তার জন্য অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
নিজের কষ্টের কথা জানাতে গিয়ে সমেলা খাতুন বলেন, “বৃষ্টি এলেই চাল থেকে বুকের ওপর টপটপ করে পানি পড়ে, রাতে ঘুমাতে পারি না। শরীরটাও ভালো থাকে না, প্রায়ই অসুস্থ থাকি কিন্তু ওষুধ কেনার টাকা থাকে না। শুনেছি সরকার গরীবদের ফ্যামিলি কার্ড দিচ্ছে। আমি যদি সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে একটি ফ্যামিলি কার্ড ও একটি ঘর পেতাম, তবে পরিবার নিয়ে অন্তত দু-মুঠো খেয়ে আর ওষুধের খরচ চালিয়ে শেষ বয়সে একটু শান্তিতে থাকতে পারতাম।”
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সমেলা খাতুনের পরিবারটি সত্যিই অত্যন্ত মানবিক সহায়তার দাবিদার। এতিম নাতি-নাতনি ও বৃদ্ধা শাশুড়িকে নিয়ে তিনি যে কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন, তা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। শুধুমাত্র ভিটেমাটির কিছু জমি থাকার অজুহাতে এমন অসচ্ছল পরিবারকে বঞ্চিত করা ঠিক নয়। তারা দ্রুত সঠিক তদন্তের মাধ্যমে সরকারি সাহায্য ও স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করছেন।