নাসির আহমেদ ,দশমিনা: পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের গছানী গ্রামের শিক্ষিত যুব কৃষি উদ্যোক্তা কাজী আনিছুর রহমান একের পর এক চমক দেখিয়ে যাচ্ছেন। এবার তিনি তার খামারে চায়না কমলা-৩ চাষ করে সফলতা দেখিয়েছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো.জাফর আহমেদ’র পরামর্শে প্রায় ৫০টি চায়না কমলা-৩ চারা রোপন করেছেন। রোপনের এক বছরের মধ্যেই প্রত্যেকটি কমলা গাছে ফুল আসতে শুরু করে। বর্তমানে কমলা গাছে কাঁচা-পাকা কমলা শোভা পাচ্ছে। প্রত্যেকটি গাছের ডালপালা কমলার ভারে নুয়ে পড়েছে। তার সমন্বিত কাজী কৃষি পার্কটি এখন মডেল খামার হিসাবে গড়ে উঠেছে। উপজেলার একমাত্র এই কৃষি খামারে উন্নত চাষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষিকে এগিয়ে নিতে দিনরাত নিরলস ভাবে কাজ করছে কৃষিতে ১১তম জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত উদ্যোক্তা কৃষক কাজী আনিছুর রহমান। কৃষি খামারে সমন্বিত চাষ ব্যবস্থাপনা ও সফলতায় যুব উদ্যোক্তা কাজী আনিছ’ নতুন দিগন্ত ও সম্ভাবনার আশার আলো দেখছে।
উপকূলীয় উপজেলা দশমিনার গ্রামীন জনপদ বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের গছানী গ্রামের কাজী আনিছ এখন যুবকদের আইকন হিসাবে পরিচিতি লাভ করেছে। কৃষি ভিত্তিক বিভিন্ন সভা, সেমিনারে তার বক্তব্য শুনে সকলেই অভিভূত হয়ে যায়। কৃষিতে সফলতা অর্জন করায় জাতীয় পুরস্কারের পাশাপাশি অনেক পুরস্কার ও সম্মান অর্জন করেছেন যা অন্যান্য যুবকদেরকে উৎসাহিত করছে। কাজী কৃষি পার্কটি একটি মডেল খামার হিসাবে বিবেচিত হওয়ায় দেশ-বিদেশে এর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিনিয়ত তার খামারে গবেষক,শিক্ষার্থী ও দশনার্থীদের আনাগোনা বেড়েই চলছে। বর্তমানে তার বাগানে দৃষ্টিনন্দন সারি সারি ছোট বড় চায়না কাঁচা-পাকা কমলা শোভা পাচ্ছে। খামারে ভার্মি কম্পোস্ট সার ব্যবহার করায় বিষমুক্ত ফল উৎপন্ন হচ্ছে। বিষমুক্ত ফলের চাহিদা থাকায় বাজারে ন্যায্যমূল্য পাবে বলে আশা করছে। চায়না কমলার ব্যাপক ফলন হওয়ায় দ্বিগুন লাভে বিক্রি করতে পারবে।
উপজেলার একমাত্র জাতীয় পর্যায়ে কৃষিতে ১১তম স্বর্ন পদকপ্রাপ্ত কৃষক কাজী আনিছুর রহমান কেঁচো সার দিয়ে বিষমুক্ত চায়না কমলার ফলনে সফলতা দেখিয়েছে। উপজেলায় প্রথম কমলা চাষ করে সফলতা চমক দেখিয়েছে। কাজী আনিছের সফলতা ও চমক দেখে অন্যান্য উদ্যোক্তা কৃষক কমলা চাষ করতে আগ্রহ প্রকাশ করছে। কাজী আনিছ বাণিজ্যিকভাবে কমলা চাষ করে বাজিমাত করেছে। উপজেলার প্রান্তিক এই চাষী বাজারে চাহিদার কথা বিবেচনা করে বাণিজ্যিকভাবে চাষ করে লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। তার কৃষি খামারে চায়না কমলা – ৩ এর ব্যাপক ফলন হয়েছে। খামারের প্রতিটি কমলা গাছে থোকায় থোকায় কাঁচা-পাকা কমলা ঝুলে আছে যা সকলের দৃষ্টি আকর্ষন করেছে। তিনি জানান,আমি অনেক বছর যাবৎ বাণিজ্যিক ভিত্তিতে নার্সারী ব্যবসার পাশাপাশি বিভিন্ন ফলের চারা রোপন করছি। এই বছর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে বাণিজ্যিকভাবে কমলার চাষ করছি। প্রায় ১০ শতাংশ পতিত জমিতে কমলার চাষ করেছি। অনেক ভালো ফলন হয়েছে। কমলা উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজার মূল্য বেশি থাকায় তিনি কমলা চাষ করেন। তিনি জানান,মৌসুম ভেদে সারা বছরই প্রায় ১১০ প্রজাতির বিভিন্ন ধরনের ফল পাওয়া যাবে। সমন্বিত কৃষি ব্যবস্থাপনায় চাষ করে কাজী আনিছ কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার আশার আলো দেখছে।