• শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৩:০৯ পূর্বাহ্ন
Headline
মায়েদের নিয়ে পিরোজপুরে মাদকবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত ঢাকা থেকে খুনি ভাড়া করে এনে উপজেলা বিএনপি সভাপতিকে হত্যা, নেপথ্যে কারা বন্যার্তদের সহযোগিতায় গাইবেন রুনা লায়লা প্রিয় দলের জয়ের সাথে নিজের ব্যক্তিগত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তকে মেলাতে নারাজ তানজিন তিশা শৃঙ্খলাজনিত কারণে মাইলস্টোন থেকে টিসি দেওয়া হয়েছিল সুহিকে রথযাত্রার অনুষ্ঠানে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লেন মির্জা ফখরুল শিশু ইয়ামালের সঙ্গে লাজুক মেসির সেই বিখ্যাত ছবিটি কীভাবে তোলা হয়েছিল শরণখোলায় দম্পতির লাশ উদ্ধার, চিরকুটে লেখা, ‘আমাদেরকে মাফ করে দিও’ বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগকারী দেশ চীন হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু

নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু আইএমএফ’র

Reporter Name / ৫ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬

প্রভাত রিপোর্ট: বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। তবে একই সঙ্গে সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, রাজস্ব ঘাটতি, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে দেশের অর্থনীতি উল্লেখযোগ্য চাপে রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে আমদানি ব্যয় ও ভর্তুকির চাপ আরও বেড়েছে, যা অর্থনীতির ঝুঁকি বাড়িয়েছে।
আইএমএফের মিশন প্রধান আইভো ক্রজনারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ১২ থেকে ১৬ জুলাই ঢাকা সফর শেষে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত বিবৃতিতে এসব তথ্য জানায়।
বিবৃতিতে বলা হয়, এই সফরের উদ্দেশ্য ছিল দেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক ও আর্থিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা এবং সরকারের অর্থনৈতিক সংস্কার অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনা করা। নতুন ঋণ কর্মসূচির সম্ভাব্য আকার, শর্ত এবং সংস্কার কর্মসূচি নিয়ে আগামী কয়েক মাসে আরও আলোচনা হবে।
আইএমএফের মতে, বাংলাদেশ বর্তমানে রাজস্ব, আর্থিক খাত এবং মূল্যস্ফীতি- এই তিনটি বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক পণ্যমূল্য বৃদ্ধি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় মূল্যস্ফীতির চাপ আবারও বেড়েছে। একই সঙ্গে ভর্তুকি ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারের সীমিত রাজস্ব সক্ষমতার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির কারণে বৈদেশিক লেনদেনেও চাপ সৃষ্টি হয়েছে, যদিও প্রবাসী আয় শক্তিশালী রয়েছে।
আইএমএফ বলেছে, ব্যাংক খাতের চাপও এখনও উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ব্যাংক খাত পুনর্গঠনের জন্য একটি বিশ্বাসযোগ্য ও সমন্বিত কৌশল গ্রহণ এবং সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর কার্যকর সংস্কার জরুরি। এতে আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি বিনিয়োগও উৎসাহিত হবে।
সংস্থাটি মনে করছে, অর্থনীতির টেকসই উন্নয়নের জন্য রাজস্ব আহরণ বাড়ানো, অপ্রয়োজনীয় ভর্তুকি যৌক্তিক করা এবং সেই অর্থ সামাজিক নিরাপত্তা ও উন্নয়ন ব্যয়ে ব্যবহার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি জোরদারেরও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পুনর্গঠনের জন্য কঠোর মুদ্রানীতি ও সতর্ক রাজস্বনীতি অব্যাহত রাখার সুপারিশ করেছে আইএমএফ। এছাড়া ২০২৫ সালে চালু হওয়া ‘ক্রলিং পেগ’ বিনিময় হার ব্যবস্থা ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে, যাতে বিনিময় হার আরও নমনীয় হয় এবং বৈদেশিক খাতের স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।
আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি সংস্কার কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন না হলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে ৩ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে আসতে পারে। পরবর্তী মধ্যমেয়াদে প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশেরও নিচে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সংস্থাটি আরও বলেছে, ব্যাংক খাতের সংকট, রাজস্ব চ্যালেঞ্জ এবং বৈদেশিক চাপ একে অপরকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। ফলে অর্থনীতির ঝুঁকি নিম্নমুখী অবস্থায় রয়েছে।
তবে আইএমএফ জানিয়েছে, সফরকালে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে গঠনমূলক ও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। সংস্থাটি আগামী মাসগুলোতে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখবে।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category