• রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৮ পূর্বাহ্ন
Headline
হোমনায় ডাকাত সন্দেহে গ্রেপ্তার, মুক্তির দাবিতে সড়ক অবরোধ রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে দেয়া কালি মুছে ভাইরাল রিকশাচালক সুপারিশকৃত বিচারকদের হবে ডোপ টেস্ট, বেঁধে দেয়া হলো সময় ভোটারের হাতের কালি শুকানোর আগেই ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন করা হয়েছে: শামা ওবায়েদ ‘কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ১০০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে’: কৃষিমন্ত্রী এসএসসিতে ফেল করা শিক্ষার্থীদের ৩–৬ মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষা নেয়া হবে: মাহদী আমিন সিটি করপোরেশনের ৭৫টি ওয়ার্ডে ডিএসসিসির বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান দেশে চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত রয়েছে : খাদ্যমন্ত্রী ক্ষতিকর উপাদানে তৈরি নকল ও ভেজাল পণ্যে বাজার সয়লাব শিক্ষার্থীদের ফলাফলের পাশাপাশি পাঠদানের কার্যকারিতাও মূল্যায়ন করতে হবে : ববি হাজ্জাজ
আজ মধ্যরাত থেকে ২২ দিনের মাছ ধরার উপর নিষেধাজ্ঞা শুরু

পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ট্রলারের ভিড়, আমদানি চার গুণ

Reporter Name / ১৬২ Time View
Update : বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬

মো মাহবুবুর রহমান, পাথরঘাটা : সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ রক্ষা ও ইলিশের প্রজননকাল নির্বিঘ্ন করতে আজ বুধবার (৭ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে শুরু হচ্ছে সাগর ও মোহনায় ২২ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা। নিষেধাজ্ঞা সামনে রেখে গভীর সমুদ্র থেকে মাছ নিয়ে বরগুনার পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ফিরছে শত শত মাছ ধরার ট্রলার। এতে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত পাথরঘাটা বিএফডিসি ঘাটে বেড়েছে ইলিশসহ সামুদ্রিক মাছের সরবরাহ।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল থেকেই মাছ বিক্রির জন্য পাথরঘাটা বিএফডিসি ঘাটে একের পর এক ট্রলার ভিড়তে দেখা যায়। ঘাট এলাকায় মাছের হাঁকডাক, ক্রেতা-বিক্রেতার ব্যস্ততা এবং শ্রমিকদের কর্মচাঞ্চল্যে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। মৎস্য ব্যবসায়ীদের মতে, নিষেধাজ্ঞার আগে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ঘাটে ইলিশের সরবরাহ তিন থেকে চার গুণ বেড়েছে।
পাথরঘাটা উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, ৭ অক্টোবর দিবাগত রাত থেকে শুরু হওয়া এ নিষেধাজ্ঞা চলবে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত। এ সময়ে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ ও ক্রয়-বিক্রয় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। একই সঙ্গে মা ইলিশ সংরক্ষণে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকার, পরিবহন, মজুদ বা বাজারজাত করলে আইন অনুযায়ী শাস্তির বিধান রয়েছে। অপরাধের ধরন অনুযায়ী এক থেকে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ড হতে পারে।
নিষেধাজ্ঞার কারণে পাথরঘাটার প্রধান মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র বিএফডিসিসহ উপজেলার বিভিন্ন মৎস্য আড়ৎ ২২ দিন কার্যত বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে কর্মহীন হয়ে পড়বেন হাজার হাজার জেলে ও মৎস্যজীবী। বন্ধ হয়ে যাবে উপজেলার সবকটি বরফকল ও মাছ সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও।
বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন ( বি এফ ডি সি) ঘাটে সরে জমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঘাটে সারি সারি ট্রলার বাধা সেই ট্রলার থেকে ঘাটের শ্রমিকরা মাছ তুলছেন। এফবি সাফওয়ান ট্রলারের মাঝি নাসির উদ্দিন জেলে হারুন, জহির, জাহাঙ্গীর, মনির, ওসমান, জব্বার সহ সকল জেলেদের একটাই কথা সাগরে মাছ ধরার উপরে নিষেধাজ্ঞার পর নিষেধাজ্ঞা অথচ মিলছে না কাঙ্খিত ইলিশ। হতাশার মধ্যে নৃত্য দিনের আশা মাছ পাওয়ার প্রতীক্ষায় প্রতিদিনই তারা দাপিয়ে বেড়ায় সাগর, নদী এবং সাগর মোহনায়। তারা বলেন সপ্তাহ, মাস, বছর পেরিয়ে গেলেও গত চার এবং পাঁচ বছর ধরে নদীতে মাছ না পাওয়ায় জায়গা জমি যার যেটুকু ছিল সব বিক্রি করে এখন নিঃস্ব। ঋণের বোঝায় জর জড়িত হয়ে জেলে পেশা ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন অনেকে। অনেকের ঘরে বৃদ্ধ মা বাবা ছোট শিশুদের চিকিৎসা দূরের কথা দুমুঠো ভাত দেয়াই তাদের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। এক কথায় তারা বলেন মাছ ধরার উপর নিষেধাজ্ঞায় মূলত সাধারণ জেলেদের কোন উপকারে আসে না।
ছয়টি বড় ট্রলারের মালিক এবং পরিচালক মোস্তফা কামাল আলম বলেন, এতগুলি ট্রলার চালিয়েও লাভের মুখ দেখতে পারি না। গত ৬ বছরে কোটি কোটি টাকা দেনা হয়ে গেছি। ট্রলার বিক্রি করতে চাইলেও ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না। কি করা যায় এ নিয়ে আমরা দিশেহারা।
পাথরঘাটার মৎস্য ব্যবসায়ী মোশারফ হোসেন বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন পাথরঘাটার বিএফডিসিসহ উপজেলার অধিকাংশ মৎস্য আড়ৎ বন্ধ থাকবে। এতে জেলে, শ্রমিক ও মাছের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বেকার হয়ে পড়বেন। তবে জেলেদের জন্য সরকারি প্রণোদনা সঠিক সময়ে ও সঠিকভাবে বিতরণ করা হলে এ সময়ের কষ্ট কিছুটা লাঘব হবে।’
বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণ করা গেলে ইলিশসহ অন্যান্য মাছের উৎপাদন বাড়বে। এর সুফল জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীরাই ভোগ করবেন। তাই অধিকাংশ জেলেই এখন নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন এবং অবরোধের সময় মাছ শিকার থেকে বিরত থাকেন। তিনি আরো বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেদের যে ২৫ কেজি চাল দেওয়া হয়, তা খুবই অপ্রতুল। জেলেদের সহায়তা বাড়ানোর পাশাপাশি আর্থিক সহায়তাও দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে বছরে একাধিকবার নিষেধাজ্ঞা না দিয়ে ইলিশের প্রজনন ক্ষেত্র বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় সময়ে একবার নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।’
পাথরঘাটা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. হাসিবুর হক বলেন, বুধবার দিবাগত রাত ১২টাএক মিনিট থেকে আগামী ২৯ অক্টোবর রাত ১২টা পর্যন্ত সাগর ও মোহনায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। এ সময়ে মাছ ধরা, পরিবহন ও মজুদের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকবে।
তিনি আরো বলেন, নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে উপজেলা মৎস্য অফিসের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ঘাটে লিফলেট বিতরণ ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হয়েছে। আগামী ২২ দিন উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে অভিযান পরিচালনা করা হবে। নদী ও সাগরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে। নৌ-পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সঙ্গে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরাও অভিযানে থাকবেন।
মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের এ নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের ফলে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category