প্রভাত স্পোর্টস : স্পেনের একটি দ্বিতীয় বিভাগীয় ম্যাচে প্রতিপক্ষ দলের গোলকিপারের সঙ্গে সংঘর্ষে এক ফুটবলারের মৃত্যুর পর সম্ভাব্য অনিচ্ছাকৃত নরহত্যা সন্দেহে তদন্ত শুরু করেছে স্প্যানিশ পুলিশ। গত সোমবার টেনেরিফের ফরোয়ার্ড হেসুস দে মিগেল এফসি অ্যান্ডোরার গোলকিপার হেসুস ওয়োনোর সঙ্গে সংঘর্ষের পর হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান। ওই ঘটনায় ওয়োনোকে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয়।
দেশের জাতীয় পুলিশ মঙ্গলবার জানিয়েছে, তারা একটি তদন্ত শুরু করেছে। স্প্যানিশ আইন অনুযায়ী, দুর্ঘটনাসহ অপ্রাকৃতিক কারণে হওয়া মৃত্যু বিচার বিভাগের তদন্তাধীন।
সান্তা ক্রুজ দে টেনেরিফের প্রধান আইনজীবী হোসে লুইস সানচেজ জোরেগুই স্প্যানিশ সংবাদ সংস্থা ইএফই-কে বলেছেন, খেলার সময় সংঘর্ষ হওয়ার কারণে ফৌজদারি মামলা হওয়ার সম্ভাবনা কম।
দে মিগেলকে তাৎক্ষণিকভাবে একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঘটনার পর ২-২ স্কোরে ম্যাচটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে অবস্থিত ক্লাবটি বলেছে, ‘এটা ছিল হৃদয় ভেঙে দেওয়ার মতো ঘটনা।’
শনিবার ভক্তরা এই খেলোয়াড়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে দলের স্টেডিয়ামে উপস্থিত হবেন। সংঘর্ষে জড়িত গোলকিপারের ৩০ হাজার ফলোয়ারের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট মঙ্গলবার থেকে নিষ্ক্রিয় আছে। তার নামের শেষ অংশের সঙ্গে মিলে যাওয়া আরেক খেলোয়াড় ও ষষ্ঠ বিভাগীয় স্প্যানিশ ক্লাব ক্যান ভিদালেতের মিচেল ওয়োনো পড়েছেন তোপের মুখে। ভুলে তাকে অ্যান্ডোরা গোলকিপার মনে করে বর্ণবাদী মন্তব্য ছুড়ে দিচ্ছেন ভক্ত-সমর্থকরা।
অ্যান্ডোরার মালিক বার্সার সাবেক তারকা জেরার্ড পিকে মিগেলের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন, ‘আমি অন্তর থেকে দুঃখিত। শান্তিতে ঘুমাও হেসুস।’
মঙ্গলবার চ্যাম্পিয়নস লিগ খেলতে নামা দলগুলো দে মিগেলের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ম্যাচ শুরু করেছে। বার্সেলোনা, অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ ও ভিয়ারিয়াল তার প্রতি সম্মান জানিয়ে ম্যাচের আগে টুর্নামেন্টের সঙ্গীত বাজায়নি। ওল্ড ট্রাফোর্ডে ম্যানইউ-রোমা ম্যাচে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
এছাড়া রিয়াল মাদ্রিদের খেলোয়াড়রা অনুশীলন চলাকালে একইভাবে দে মিগেলকে শ্রদ্ধা জানায়। মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপে বলেছেন, ‘অনেক কষ্ট হচ্ছে। কোনো ভাষা নেই।’ আর্জেন্টিনা গ্রেট লিওনেল মেসি ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন, ‘বলার কোনো ভাষা নেই। তার পরিবার ও বন্ধুদের সবার প্রতি আমার সমবেদনা এবং শক্তি কামনা করছি।’