রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর রাণীনগরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কুজাইল বাজারে সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে ৩ দিনব্যাপী প্রাচীন মেলা। শারদীয় দুর্গোৎসবের পাঁচ দিন পর ঢাক-ঢোল ও কোনো প্রকার প্রচার-প্রচারণা ছাড়াই শত শত দোকানি রকমারি পণ্যের পসরা নিয়ে এই মেলায় অংশ নিয়েছেন।
নওগাঁর ছোট যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত কুজাইল মেলার ইতিহাস অত্যন্ত প্রাচীন। বয়োবৃদ্ধরাও এর সঠিক সূচনার ইতিহাস বলতে পারেন না। তবে জনশ্রুতি রয়েছে, প্রায় ৩০০ বছর আগে কাশিমপুর রাজবাড়ির রাজাদের প্রত্যক্ষ নির্দেশে লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে ছোট যমুনা নদীর পূর্বপাশে এই মেলার সূচনা হয়েছিল। সেই থেকে প্রতিবছর এই ঐতিহ্য ধরে রেখে মেলাটি অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।
মেলা শুরুর দুই-তিন দিন আগ থেকেই ফার্নিচার, কসমেটিকস, মিষ্টি, খেলনাসামগ্রী এবং শিশুদের বিনোদনের জন্য আকর্ষণীয় নাগরদোলা এসে স্থান দখল করে নিয়েছে। ব্যবসায়ীদের আগাম উপস্থিতির কারণে কুজাইল ফুটবল মাঠে আয়োজক কমিটি ‘জাগরণ সংসদ’-এর সদস্যদের জায়গা বরাদ্দ দিতে বেশ হিমশিম খেতে হচ্ছে।
এদিকে মেলাকে কেন্দ্র করে আশেপাশের এলাকায় বইছে আনন্দের জোয়ার। বাড়ির প্রতিটি ঘরে ঘরে জামাই-মেয়ে ও আত্মীয়স্বজনদের আগমন ঘটায় এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। মেলা উপলক্ষে তিল ও নারকেলের নাড়ু, রকমারি মিষ্টি এবং মচমচে জিলাপি আপ্যায়নের বিশেষ ঐতিহ্য হিসেবে বেশ প্রচলিত। এছাড়া মেলার দ্বিতীয় দিনে ঐতিহ্যবাহী ‘বৌ মেলা’ অনুষ্ঠিত হবে। লোকমুখে প্রবাদ রয়েছে, এই মেলায় জামাই-মেয়েকে আমন্ত্রণ না জানালে আত্মীয়তার সম্পর্কে যেন কিছুটা ঘাটতি থেকে যায়!
সোমবার বিকেল থেকে ছোট যমুনা নদীতে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত নৌকা নিয়ে প্রতিমা বিসর্জনের জন্য ভক্তরা সমবেত হবেন। ঢাক-ঢোলের বাদ্য ও আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে সন্ধ্যার আগেই পূজা আয়োজক কমিটির সদস্যরা প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন করবেন।
মেলা পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও কুজাইল জাগরণ সংসদের সভাপতি সাইদুল ইসলাম জানান, মেলার শান্তিভঙ্গ রোধ ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কমিটির নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি রাণীনগর থানা পুলিশ কঠোর অবস্থানে থাকবে। সুষ্ঠুভাবে মেলা পরিচালনার জন্য বিভিন্ন উপ-কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
কাশিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মকলেছুর রহমান বাবু বলেন, “মেলা সুন্দরভাবে পরিচালনার জন্য বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে, যার সার্বিক পরিচালনায় আমি নিজে যুক্ত রয়েছি। মেলায় আগত ব্যবসায়ী ও সর্বসাধারণের প্রতি পরিবেশ সুন্দর রাখতে সর্বাত্মক সহযোগিতার আহ্বান জানাচ্ছি।
রাণীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকারিয়া মন্ডল জানান,সনাতন ধর্মাবলম্বীদের লক্ষ্মীপূজার প্রতিমা বিসর্জন ও ছোট যমুনা নদীতে নৌকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হবে। পাশাপাশি মেলা প্রাঙ্গণে ইউনিফর্ম ও সাদা পোশাকে পুলিশি পাহারা থাকবে। মেলায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সব ধরনের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে মেলায় কোনো প্রকার অশ্লীল নাচ-গান,জুয়ার আসর ও লটারি বসতে দেওয়া হবে না বলছেন এই কর্মকর্তা।