• বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১০:১০ অপরাহ্ন
Headline
মায়েদের নিয়ে পিরোজপুরে মাদকবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত ঢাকা থেকে খুনি ভাড়া করে এনে উপজেলা বিএনপি সভাপতিকে হত্যা, নেপথ্যে কারা বন্যার্তদের সহযোগিতায় গাইবেন রুনা লায়লা প্রিয় দলের জয়ের সাথে নিজের ব্যক্তিগত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তকে মেলাতে নারাজ তানজিন তিশা শৃঙ্খলাজনিত কারণে মাইলস্টোন থেকে টিসি দেওয়া হয়েছিল সুহিকে রথযাত্রার অনুষ্ঠানে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লেন মির্জা ফখরুল শিশু ইয়ামালের সঙ্গে লাজুক মেসির সেই বিখ্যাত ছবিটি কীভাবে তোলা হয়েছিল শরণখোলায় দম্পতির লাশ উদ্ধার, চিরকুটে লেখা, ‘আমাদেরকে মাফ করে দিও’ বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগকারী দেশ চীন হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু

শিশু ইয়ামালের সঙ্গে লাজুক মেসির সেই বিখ্যাত ছবিটি কীভাবে তোলা হয়েছিল

Reporter Name / ৮ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬

প্রভাত স্পোর্টস: ২০০৭ সালের ডিসেম্বর। বার্সেলোনার এক স্টুডিওতে প্রস্তুত করা হয়েছে ছোট্ট একটা প্লাস্টিকের বাথটাব, তাতে পানি। সামনে বসানো হলো ২০ বছরের লাজুক এক তরুণ ফুটবলারকে। এরপর তাঁর কোলে তুলে দেওয়া হলো পাঁচ মাস বয়সী এক শিশুকে। সেই তরুণের নাম লিওনেল মেসি আর শিশুটি লামিনে ইয়ামাল। বিশ্বকাপ ফাইনালে রবিবার মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা-স্পেন, যে ম্যাচটা ফিরিয়ে আনছে মেসি-ইয়ামালের সেই ছবির স্মৃতি। কিন্তু আসলেই কী হয়েছিল সেদিন? কীভাবে দুই প্রজন্মের দুজন ক্যামেরাবন্দি হলেন একসঙ্গে?

ছবিটি ছিল বার্সেলোনা ফাউন্ডেশন ও কাতালান দৈনিক দিয়ারিও স্পোর্তের একটি দাতব্য ক্যালেন্ডারের অংশ। প্রতিবছর ক্লাবের ফুটবলারদের সঙ্গে শিশুদের ছবি তুলে সেই ক্যালেন্ডার বিক্রি করা হতো। আয় যেত ইউনিসেফসহ বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠানে। বার্সেলোনার স্কোয়াডের ১২ জন ফুটবলারকে বছরের ১২টি মাসের প্রতীক করে জুড়ে দেওয়া হতো একেকটি শিশুর সঙ্গে। অনেক পরিবার অংশ নিয়েছিল সেই আয়োজনে। বেশির ভাগ ছবিই কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে, রয়ে গেছে শুধু কিছু পরিবারের ব্যক্তিগত স্মৃতিতে।

সেই ছবিটাও হয়তো হারিয়ে যেত, কিন্তু নিয়তিটা লেখা ছিল অন্যভাবে। সেদিন যাকে বেছে নেওয়া হয়েছিল মেসির জোড়া হিসেবে, সে ছিল মাতারো শহরের এক শিশু, যে একদিন মাঠের খেলায় মনে করিয়ে দেবে মেসিকে।

সেই ছবির আলোকচিত্রী হুয়ান মনফোর্ত সেদিনের স্মৃতিচারণা করেছিলেন পরে, ‘এটি খুব কঠিন একটি ছবি ছিল। বলতে পারেন, ছবিটি তুলতে আমার রক্ত-ঘাম এক হয়ে গিয়েছিল।’

মেসি তখনো বিশ্বসেরা নন। লা লিগা আর চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতলেও তিনি ছিলেন রোনালদিনিও, স্যামুয়েল ইতো, জাভি, ইনিয়েস্তা, পুয়োল আর অঁরির ভিড়ে এক উঠতি প্রতিভামাত্র। বার্সেলোনার মূল দলে চতুর্থ বছর চলছে কেবল। প্রতিভার ঝলক দেখিয়েছেন, কিন্তু সামনে তখনো লম্বা পথ পাড়ি দেওয়া বাকি।

‘মেসি এখনো লাজুক মানুষ। কিন্তু তখন তিনি আরও বেশি লাজুক ছিলেন। হঠাৎ করেই তাঁকে একটি ছোট্ট শিশুর সঙ্গে পানিভর্তি বাথটাবে দাঁড়াতে হলো। শুরুতে দুজনের মধ্যে কোনো যোগাযোগই হচ্ছিল না। সবার জন্যই পরিস্থিতি একটু অস্বস্তিকর ছিল। তবে ধীরে ধীরে সব স্বাভাবিক হয়ে যায় এবং শেষ পর্যন্ত আমরা দারুণ একটি ছবি পাই,’ বলেন মনফোর্ত।

মনফোর্তের ভাষায়, ‘ফুটবলাররা সাধারণত বলেন, “চলুন, তাড়াতাড়ি শেষ করি।” কিন্তু এমন ছবি তুলতে সময় দিতে হয়। বিশেষ করে একজন ২০ বছরের তরুণ আর ৫ মাসের শিশুর মধ্যে স্বাভাবিক মুহূর্ত তৈরি করা মোটেও সহজ নয়।’

এখানে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল ইয়ামালের মা শেইলা এবানার।

‘মা পাশে না থাকলে শিশুটি অস্বস্তি বোধ করত। আমরা চেয়েছিলাম ছবিটি যেন কোমল ও আন্তরিক হয়। তিনি অসাধারণভাবে সহযোগিতা করেছিলেন,’ বলেন মনফোর্ত।

ইয়ামালের পরিবার তখন বার্সেলোনা থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরের মাতারো শহরে থাকত। ছোট্ট শিশুকে নিয়ে এতটা পথ পাড়ি দিয়ে ক্যাম্প ন্যুতে আসা, খেলোয়াড়ের জন্য অপেক্ষা করা—সবকিছুই ছিল কষ্টসাধ্য। সেই কাজটি করেছিলেন ইয়ামালের মা। মনফোর্ত এরপর প্রতিটি পরিবারের মতো ইয়ামালের পরিবারকেও ছবির কপি উপহার দিয়েছিলেন।
বছর সাতেক পর সেই একই মাতারো থেকে নিয়মিত ক্যাম্প ন্যুতে যাতায়াত শুরু করে ইয়ামাল। ২০১৪ সালে সে যোগ দেয় বার্সেলোনার বিখ্যাত লা মাসিয়া একাডেমিতে। এর পরের গল্পটা রূপকথার মতো। ২০২৩ সালের এপ্রিলে মাত্র ১৫ বছর বয়সে লা লিগা অভিষেক, একই বছরের সেপ্টেম্বরে স্পেনের জাতীয় দলে অভিষেক ১৬ বছর বয়সে। ২০২৪ ইউরোর শিরোপাজয়ী দলের অন্যতম কুশীলব হয়ে ওঠেন তিনি, আর এখন তো স্পেন ফুটবলেরই সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন।

২০২৪ ইউরোর সময় মেসি-ইয়ামালের ছবিটি ইয়ামালের বাবা মৌনির নাসরাউই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করলে মুহূর্তেই তা ‘ভাইরাল’ হয়ে যায়। মনফোর্ত নিজেও তখন অবাক হয়েছিলেন। দিয়ারিও স্পোর্তের এক সাবেক সহকর্মী তাঁকে ফোন করে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ছবিটা তাঁরই তোলা কি না। মনফোর্ত জানতেন না তখনো, শিশুটি কে ছিল। সহকর্মী হেসে বলেছিলেন, ‘লামিনে, লামিনে।’

মনফোর্ত এখন ফ্রিল্যান্স হিসেবে কাজ করছেন মাদ্রিদভিত্তিক পত্রিকা দিয়ারিও এএসের হয়ে, পাশাপাশি এএফপির মতো বার্তা সংস্থার জন্যও। জীবনের সবচেয়ে বিখ্যাত ছবিটা যে এভাবে ফিরে আসবে, লামিনের বেড়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে আরও বেশি ঐতিহাসিক হয়ে উঠবে, সেটা তাঁর কল্পনায়ও ছিল না। আজও মনফোর্ত বিশ্বাস করতে পারেন না, হাজার হাজার ছবির মধ্যে এটিই হয়ে উঠেছে তাঁর জীবনের সবচেয়ে বিখ্যাত কাজ, ‘এটি আমার জীবনের সবচেয়ে বিখ্যাত ছবি। লামিন যদি এভাবেই এগিয়ে যেতে থাকে, তাহলে ছবিটি আরও ঐতিহাসিক হয়ে উঠবে। এমন ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা ছিল লটারিতে জেতার মতোই ক্ষীণ।’

মনফোর্ত এই ঘটনাকে তুলনা করেছেন আরেকটি বিখ্যাত মুহূর্তের সঙ্গে। ১৯৮৬ সালের এপ্রিলে তোলা সেই ছবিতে লা মাসিয়ার বল বয় হিসেবে থাকা ১৫ বছরের এক কিশোর করতালি দিচ্ছে বার্সেলোনার কোচ টেরি ভেনাবলসকে লক্ষ্য করে, যাঁকে খেলোয়াড়েরা কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন গোথেনবার্গের বিপক্ষে নাটকীয় জয়ের পর। সেই কিশোরের নাম ছিল পেপ গার্দিওলা। ভেনাবলস যখন ২০২৩ সালের নভেম্বরে মারা যান, গার্দিওলা নিজেই সেই ছবিটা পোস্ট করেছিলেন।

তবে মেসি-ইয়ামালের ছবিটা ছাড়িয়ে গেছে সমকালীন অনেক ছবিকেই, ফুটবল ইতিহাসেরই সবচেয়ে ‘আইকনিক’ ছবিগুলোর একটি তা এখন। বাথটাবে থাকা পাঁচ মাসের শিশু ইয়ামাল এখন মেসির মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন বিশ্বকাপ ট্রফির জন্য।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category