মো.কামাল পারভেজ, শ্রীপুর : আলমা ফিড ইন্ডাস্ট্রির প্রাচীর নির্মাণ কাজের জন্য স্কুলমাঠ ভাড়া নিয়ে রাখা হচ্ছে নির্মাণসামগ্রী। শিল্পকারখানার নির্মাণ সামগ্রী রাখার জন্য স্কুলের মাঠ ভাড়া দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক। এতে মাঠে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়ে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা বন্ধ রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন অভিভাবক ও শিক্ষকরা। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
গতকাল সোমবার সরেজমিনে দেখা যায়, গাজীপুরের শ্রীপুরে নয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরো মাঠে ইট, বালি, রড, সিমেন্টসহ বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রী রাখা হয়েছে। পাশেই চলছিল শিল্পকারখানার সীমানা প্রাচীর নির্মাণকাজ। মাঠ দিয়ে ডাম্পট্রাক চলাচলের কারণে সেখানে খানাখন্দ তৈরি হয়েছে এবং কাদা জমে মাঠ খেলাধুলার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, কারখানার সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ করছেন প্রধান শিক্ষক শাহানাজ বেগম ও তাঁর ছেলে রাতুল। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
নয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী শাহানাজ বলেন, কয়েকদিন ধরে আমাদের মাঠে সব ধরনের খেলাধুলা বন্ধ রয়েছে। পুরো মাঠ কাদা হয়ে গেছে। নির্মাণ সামগ্রী রেখে আমাদের মাঠ নষ্ট করছে। ইটের সুরকি পায়ের নিচে লেগে আহত হচ্ছে অনেক শিক্ষার্থী।’
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তরিকুল বলেন, প্রায় প্রতিদিন আমরা মাঠে ফুটবল খেলতাম। কিন্তু কয়েকদিন ধরে সব খেলাধুলা বন্ধ। আমাদের খেলার মাঠটা একেবারে গাড়ী ও ইটা বলি দিয় নষ্ট করে ফেলছে। আমরা মাঠ আগের অবস্থায় ফিরে পেতে চাই।
নির্মাণ সামগ্রী ভাঙার কাজ করেন মো. সোহাগ মিয়া তিনি বলেন, `নয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক শাহানাজ বেগমের ছেলে রাতুল এই কাজের জন্য আমার সঙ্গে চুক্তি করেন। নির্মাণ সামগ্রী রাখার জন্য এই মাঠটি ভাড়া নিয়েছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। আমাদেরকে কাজ করার জন্য এনেছে, আমরা কাজ করছি।’

নয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আমির হোসাইন বলেন, রবিবার স্কুলে এসে দেখি, পুরো মাঠে ইট, বালিসহ বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রী রাখা। জানতে চাইলে কারখানা কর্তৃপক্ষ জানান, প্রধান শিক্ষক আর তাঁর ছেলে অনুমতি দিয়েছেন। এরপর আর আমরা কোথায় প্রতিবাদ করব? শিক্ষার্থীদের সব ধরনের খেলাধুলা বন্ধ মাঠের অবস্হা খারাপ।
আলমা ফডি ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার শাহেদ হাসান মোরসালিন বলেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে অনুমতি নিয়ে মাঠ বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও মনির হোসেন নামে দুজনকে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’
এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে নয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহানাজ বেগম বলেন, বিদ্যালয়ের মাঠ ভাড়া দেওয়ার বিষয়ে আমি জানি না। তারা কিভাবে মাঠে নির্মাণ সামগ্রী রাখছে, এটা বলতে পারবো না। তিনি ও তাঁর ছেলে রাতুল মাঠ ভাড়া দিয়েছেন বলে শ্রমিকদের বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর দিতে রাজি হননি।
শ্রীপুর উপজেলা প্রাথমিকশিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা নাসরিন বলেন, এ বিষয়ে ইতিমধ্যে অবগত হয়েছি। প্রধান শিক্ষক মাঠে নির্মাণ সামগ্রী রাখার জন্য কাউকে অনুমতি দিতে পারেন না। দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ ভূঁইয়া বলেন, মাঠে নির্মাণ সামগ্রী রাখার বিষয়ে অবগত হয়েছি। স্কুলমাঠ নষ্ট করার কোনো সুযোগ নেই। দ্রুত সময়ের মধ্যে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।