• সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৩৬ অপরাহ্ন
Headline
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে সেমিনার অনুষ্ঠিত পিরোজপুরে পৃথক অভিযানে বিদেশি পিস্তল, গুলি ও অস্ত্রসহ আটক ১; নাজিরপুরে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৮ ত্রিশালে চোরাই অটোরিক্সাসহ চারজন গ্রেফতার দেশে সাড়ে ৫৮ হাজার চিকিৎসকের ঘাটতি রয়েছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তাবেষ্টনী অতিক্রম: গ্রেপ্তার মহিবুল্লাহর পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর শেখ হাসিনার সম্পদ বাজেয়াপ্তের উদ্যোগ, আইনি প্রক্রিয়া ঠিক করতে কাজ চলছে : চিফ প্রসিকিউটর পুলিশের পরিচয় পাওয়ার পর হামলাকারীরা আরও বেপরোয়া হয় : র‍্যাব নিরাপদ খাদ্য নিয়ে কাজ করবে খুলনা-ইতালির মিলান: এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী উদ্যোক্তা তৈরি করে কর্মসংস্থান সৃষ্টিই সরকারের মূল লক্ষ্য: অর্থমন্ত্রী ইউপি নির্বাচন কয়েক ধাপে হবে : ইসি সচিব

অর্থনৈতিক মন্দাভাবের মধ্যেও মুনাফায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

Reporter Name / ৫ Time View
Update : সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

প্রভাত অর্থনীতি: দেশের অর্থনীতিতে চাপ ও মন্দাভাব অব্যাহত থাকলেও সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুনাফায় বড় ধরনের লাফ দেখা গেছে। এই অর্থবছরে ব্যাংক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির মুনাফা ৩ হাজার ৩৫৭ কোটি টাকা বেড়ে ২৫ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকায় উঠেছে। এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। গত ৩০ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আর্থিক হিসাব বিবরণী অনুমোদন করা হয়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সাধারণত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের মতো সরাসরি মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে কাজ না করলেও নির্দিষ্ট কিছু ঋণ ব্যবস্থাপনা ও বিনিয়োগ কার্যক্রমের সুদ আয় থেকে এ বড় অঙ্কের মুনাফা হয়েছে।
গত অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুনাফা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের নানাবিধ ব্যবহার। যেমন বিভিন্ন দেশের বন্ডে ও সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ করায় প্রতিষ্ঠানটির সাড়ে চার হাজার কোটি টাকার বেশি আয় হয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংকগুলো ও সরকারকে টাকা ধার দিয়েও ২১ হাজার কোটি টাকার বেশি সুদ আয় করেছে।
এ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ মুস্তফা কে মুজেরী গণমাধ্যমকে বলেন, টাকা ও রিজার্ভের ব্যবহার পুরোটাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে। সেখান থেকে বিনিয়োগ করলে মুনাফা হবে, এটাই স্বাভাবিক। তবে দেখতে হবে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কাজ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ধরে রাখা, সেটা কতটা করতে পারছে। অনেকগুলো ব্যাংক গ্রাহকের টাকা ফেরত দিতে পারছে না। কেন এমনটা হলো, কী ধরনের সংস্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংকে প্রয়োজন—সেদিকে মনোযোগ দেওয়া দরকার।
বাংলাদেশ ব্যাংক মূলত দেশীয় মুদ্রা ও বৈদেশিক মুদ্রা কাজে লাগিয়ে আয় করে। যেমন প্রতিষ্ঠানটি টাকা ছাপিয়ে সরকার ও ব্যাংকগুলোকে ঋণ দিতে পারে। সেই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ব্যবস্থাপনার কাজটিও করে এ প্রতিষ্ঠান। এটি করা হয় বিভিন্ন দেশে বিনিয়োগ করে এবং স্থানীয় ব্যাংকগুলোর কাছে ডলার বিক্রির মাধ্যমে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিভিন্ন দেশের বন্ড ও সিকিউরিটিজে রিজার্ভের অর্থ (ডলার) বিনিয়োগ করায় সুদ আয় হয়েছে ১২ হাজার ৬৪ কোটি টাকা। পাশাপাশি কমিশন ও ডিসকাউন্ট থেকে আয় করেছে ২৭৪ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই দুই খাতে আয় হয়েছিল ৭ হাজার ৭০২ কোটি টাকা, অর্থাৎ এ দুটি খাতে প্রতিষ্ঠানটির আয় বেড়েছে ৪ হাজার ৬৩৭ কোটি টাকা।
এদিকে জাতীয় অর্থনীতিতে রাজস্ব আদায়ের গতি শ্লথ থাকায় বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ট্রেজারি বিল ও বন্ডের মাধ্যমে প্রচুর ঋণ নিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ধার দেওয়া এই তহবিলের সুদ আয়ের সুবাদেও মোট আয়ে বড় প্রবৃদ্ধি ঘটেছে। ব্যাংকগুলোকে চাহিদা অনুযায়ী স্থানীয় মুদ্রা বা টাকা ধার দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক আয় করেছে ২১ হাজার ৫৭০ কোটি টাকা। কমিশন ও ডিসকাউন্ট আয় হয়েছে ৪৩১ কোটি টাকা। লভ্যাংশ পেয়েছে ২০০ কোটি টাকা ও অন্যান্য আয় হয়েছে ৪৭৫ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে টাকা ধার দিয়ে আয় হয়েছে ২২ হাজার ৬৭৭ কোটি টাকা, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ছিল ২৪ হাজার ৭৫১ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্যান্য আয়ের মধ্যে রয়েছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অর্থ স্থানান্তর এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থার অবকাঠামো ব্যবহারের বিপরীতে নির্ধারিত সেবা মাশুল ও জরিমানা আদায়। সব মিলিয়ে আয় হয়েছে ৩৫ হাজার ১৬ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের খরচের বড় খাত হলো রিজার্ভের অর্থ বিনিয়োগের জন্য বিভিন্ন দেশে থাকা হিসাবের ব্যবস্থাপনা মাশুল। রিজার্ভের সোনা অন্য দেশে রাখার জন্য ভাড়া গুনতে হয়। এ ছাড়া ব্যাংকগুলো যখন বাংলাদেশ টাকা জমা রাখে, তখন সেই টাকার বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে সুদ দিতে হয়। এতেও প্রচুর অর্থ খরচ হয়। টাকা ছাপানো ও পরিচালন ব্যয়ও খরচের বড় খাত। ব্যাংকগুলোকে ধার দেওয়া টাকার বিপরীতে খেলাপি হয়ে পড়ার আশঙ্কায় বড় অঙ্কের নিরাপত্তা সঞ্চিতি রাখতে হয়।
দেখা গেছে, গত অর্থবছরে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় খরচ হয়েছে ২ হাজার ১৩২ কোটি টাকা। টাকা ব্যবস্থাপনায় খরচ হয়েছে ৪৭৯ কোটি টাকা। গত অর্থবছরে টাকা ছাপাতে ব্যয় হয়েছে ৪৫৯ কোটি টাকা। সাধারণ ও পরিচালন ব্যয় দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩৮ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে খরচ হয়েছে ৮ হাজার ৯৯৩ কোটি টাকা, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ছিল ৯ হাজার ২২৮ কোটি টাকা।
গত অর্থবছরে বাংলাদেশ ব্যাংক মোট আয় করে ৩৫ হাজার ১৬ কোটি টাকা। আর খরচ হয় ৮ হাজার ৯৯৩ কোটি টাকা। ফলে মুনাফা হয় ২৬ হাজার ২৩ কোটি টাকা। তা থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতনের ৬ গুণ সমপরিমাণ প্রণোদনা বোনাস দেওয়া হয়। এরপর মুনাফা দাঁড়ায় ২৫ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলেন, রিজার্ভের দক্ষ ব্যবস্থাপনার ফলেই এত মুনাফা করা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি সরকার ও ব্যাংকগুলোকে টাকা ধার দেওয়ায় আয় বেড়েছে। তবে অর্থনীতি গতিশীল থাকলে এত মুনাফা হবে না।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category