• শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ০৮:৩৯ অপরাহ্ন
Headline
টিকার সংকট এবং হামে শিশুমৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত শুরু: স্বাস্থ্যসচিব পুলিশ সপ্তাহ শুরু রবিবার, ১০৭ জনকে পদক দেবেন প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতির বিদেশযাত্রা ও দেশে ফেরার রাষ্ট্রাচারে পরিবর্তন রাজধানীতে ফের বেড়েছে মশার উপদ্রব, ডেঙ্গুর ভয় গণমাধ্যমের স্বাধীনতা দেশের রাজনৈতিক ইকোসিস্টেমের প্রতিফলন: ড. ইফতেখারুজ্জামান জিডিপির ৫ শতাংশ শিক্ষাখাতে বরাদ্দের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে নির্বাচনের আগে দেয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হবে: তারেক রহমান বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীর বানানো ‘স্মার্ট কারে’ চড়লেন প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের বিশ্বমানের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার: মাহাদী আমিন কৃষকের কষ্টের ফসল হারানোর বেদনা অনেক : কৃষিমন্ত্রী

রাজ্যপালকে ১১৬ বিধায়কের স্বাক্ষর দিয়েছেন বিজয়, শপথ অনিশ্চিত

Reporter Name / ৬ Time View
Update : শনিবার, ৯ মে, ২০২৬

প্রভাত ডেস্ক: তামিলনাড়ু রাজনীতির শ্বাসরুদ্ধকর নাটকীয়তায় যুক্ত হলো নতুন মোড়। প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে না পারায় অভিনেতা-রাজনীতিবিদ থালাপতি বিজয়কে শনিবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার আমন্ত্রণ জানাননি রাজ্যপাল আর এন রবি। রাজভবন সূত্রে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, বিজয় ১১৮ জন বিধায়কের প্রয়োজনীয় সমর্থন দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন।
বিজয় শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করে সরকার গঠনের দাবি জানিয়েছিলেন। এ সময় তিনি ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থন রয়েছে বলে দাবি করলেও রাজ্যপালের কাছে জমা দেয়া চিঠিতে ১১৬ জন বিধায়কের স্বাক্ষর পাওয়া গেছে। অর্থাৎ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য তার এখনও আরও দুজন বিধায়কের সমর্থনযুক্ত স্বাক্ষর প্রয়োজন।
সূত্রের বরাতে ইন্ডিয়া টুডে লিখেছে, ভিসিকে ও আইইউএমএল-এর বিধায়কদের সমর্থনযুক্ত চিঠি দ্রুতই জমা দেয়া হবে বলে রাজ্যপালকে জানিয়েছেন বিজয়। কিন্তু রাজ্যপালের কার্যালয় জানিয়েছে, অবশিষ্ট দুই বিধায়কের সমর্থনের চিঠি পাওয়ার পরই কেবল শপথ অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেওয়া হবে। এর আগে সূত্রের বরাতে ইন্ডিয়া টুডে লিখেছিল, রাজ্যপাল বিজয়কে সরকার গঠনে সবুজ সংকেত দিয়েছেন। শনিবার শপথ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। তবে এখন তা অনিশ্চিত হয়ে পড়লো।
কংগ্রেসের সমর্থন পাওয়ার পর বিজয় ভিসিকে, এএমএমকে এবং আইইউএমএল-এর একজন বিধায়কের সমর্থন আদায়ের জন্য জোর তৎপরতা চালান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা সফল হয়নি। আইইউএমএল একটি বিবৃতি দিয়ে সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা বিজয় বা টিভিকে-র নেতৃত্বাধীন জোটের অংশ নয়। অন্যদিকে, ভিসিকে-র পক্ষ থেকেও সমর্থনের কোনও চূড়ান্ত চিঠি পাওয়া যায়নি। এর আগে গত বুধ ও বৃহস্পতিবার রাজ্যপাল আর এন রবির সঙ্গে বিজয়ের দুই দফা বৈঠক হয়। তখন বিজয়ের সাথে ১১৩ জন বিধায়ক ছিলেন। রাজ্যপাল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, ১১৮ জনের কম সমর্থন নিয়ে তিনি কাউকে সরকার গঠনের অনুমতি দেবেন না।
বিজয়ের দল টিভিকে ১০৮টি আসনে জয়ী হয়ে ডিএমকে ও এআইএডিএমকে-র দীর্ঘ ৬২ বছরের আধিপত্যে বড় ধাক্কা দিয়েছে। কিন্তু সরকার গঠনে তাদের মিত্রদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। কংগ্রেস তাদের ৫ বিধায়কের সমর্থন দেওয়ার ক্ষেত্রে শর্ত দিয়েছে যে, বিজয় কোনোভাবেই ‘সাম্প্রদায়িক শক্তি’র (বিজেপি) সঙ্গে জোট করতে পারবেন না। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ডিএমকে ও কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের পুরনো জোটে ফাটল ধরেছে এবং একে অপরের বিরুদ্ধে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’র অভিযোগ তুলেছে।
বামপন্থি দল সিপিআই এবং সিপিআই (এম) বিজয়কে ‘বাইরে থেকে’ সমর্থন দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে। তারা মন্ত্রিসভায় যোগ দেবে না। অন্যদিকে, কংগ্রেস সমর্থন দেওয়ার বিনিময়ে দুটি মন্ত্রী পদ প্রত্যাশা করছে।
রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন ছিল যে, বিজয়ের উত্থান ঠেকাতে দুই চিরশত্রু ডিএমকে ও এআইএডিএমকে হাত মেলাতে পারে। অনেকে একে ‘অশুভ আঁতাত’ বলে আখ্যা দিলেও শেষ পর্যন্ত আদর্শগত ভিন্নতার কারণে তা আর বাস্তবে রূপ নেয়নি। একইভাবে বিজয়ের সঙ্গে এআইএডিএমকে-র জোট নিয়েও গুঞ্জন শোনা গিয়েছিল।
রাজ্যপালকে দিয়ে বিজয়কে থামানোর যে অভিযোগ উঠেছে, তা অস্বীকার করেছে বিজেপি। দলের রাজ্য মুখপাত্র নারায়ণ তিরুপতি বলেন, ‘এটি একটি ত্রিশঙ্কু ফলাফল। বিজয়ের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। তিনি যদি তা প্রমাণ করতে পারেন, তবে রাজ্যপাল সাংবিধানিকভাবে তা মেনে নেবেন। এখানে কোনও বিভ্রান্তি নেই এবং কাউকে চাপ দেওয়ার প্রশ্নই আসে না।’


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category