• রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ১১:০৯ অপরাহ্ন
Headline
নুহাশপল্লীতে শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় হুমায়ূন আহমেদকে স্মরণ অপরিকল্পিত নগরায়ণে বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠছে ঢাকা বিমানবন্দরের ক্যানোপিতে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের অবাধ প্রবেশ নির্বাচন কে করবে, না করবে এটা আদালত ও ইসির বিষয়: রিজভী আমার লজ্জা হয় এদের মতো একটি বিরোধীদল সংসদে: হারুনুর রশিদ কর্মপরিবেশ উন্নয়নে বাংলাদেশ নতুন যাত্রা শুরু করেছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ক্ষমতার লোভে গণতন্ত্রকে হুমকিতে ফেলা যাবে না: ইশরাক ভারী বৃষ্টিতে বাড়ছে নদীর পানি, ৫ জেলায় আকস্মিক বন্যার শঙ্কা ভবনের চিলেকোঠায় বাবা ও ছেলেকে আটকে নির্যাতন-চাঁদা আদায়, গ্রেফতার ৩ শাপলা চত্বরে ৬১ জনকে হত্যার তথ্য মিলেছে, শনাক্ত ৫৮: চিফ প্রসিকিউটর

আইন শিথিল, তবে এখনও জাপানের সিংহাসনে বসতে পারবেন না নারীরা

Reporter Name / ১১ Time View
Update : শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬

প্রভাত ডেস্ক: হ্রাস পেতে থাকা রাজপরিবারের সদস্য সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই অবশেষে জাপানের রাজকীয় উত্তরাধিকার নিয়মে কিছুটা শিথিলতা এনে একটি নতুন বিল অনুমোদন করেছে দেশটির পার্লামেন্ট। তবে দীর্ঘদিনের তুমুল জনসমর্থন থাকা সত্ত্বেও এই সংশোধনীতে নারীদের সিংহাসনে বসার ওপর জারি থাকা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়নি। এর ফলে বর্তমান সম্রাটের একমাত্র সন্তান প্রিন্সেস আইকো এখনও সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হওয়ার অযোগ্যই রয়ে গেলেন।

শুক্রবার জাপানের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষে বিলটি পাস হয়। গত সপ্তাহে এটি নিম্নকক্ষে পাস হয়েছিল। এখন কেবল আনুষ্ঠানিক আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই এটি কার্যকর হবে। ১৯৪৯ সালের পর এই প্রথম জাপানের ‘ইম্পেরিয়াল হাউস ল’ বা রাজকীয় আইনের মূল পাঠে কোনো সংশোধন আনা হলো। গত কয়েক দশকের মধ্যে জাপানি রাজতন্ত্রের সবচেয়ে বড় সংস্কার এটিই।

নতুন এই আইনের ফলে রাজপরিবারের সদস্যরা এখন ১৫ বছরের বেশি বয়সী দূর সম্পর্কের পুরুষ আত্মীয়দের দত্তক নিতে পারবেন। পাশাপাশি রাজপরিবারের নারী সদস্যরা সাধারণ পরিবারে বিয়ে করলেও তাদের রাজকীয় মর্যাদা ও উপাধি ধরে রাখতে পারবেন। এর আগে নিয়ম অনুযায়ী সাধারণ কোনো নাগরিককে বিয়ে করলে নারীদের রাজকীয় উপাধি ত্যাগ করে পরিবার ছাড়তে হতো। ২০২১ সালে নিজের সহপাঠীকে বিয়ে করে রাজপরিবার ছেড়েছিলেন প্রিন্সেস মাকো।

বিশ্বের সবচেয়ে পুরোনো অবিচ্ছিন্ন বংশানুক্রমিক রাজতন্ত্রের দেশ জাপানে এই রাজবংশের ইতিহাস প্রায় ২৬০০ বছরেরও বেশি পুরোনো বলে বিশ্বাস করা হয়। বর্তমানে সিংহাসনের উত্তরাধিকারের তালিকায় প্রথম স্থানে আছেন সম্রাটের ৬০ বছর বয়সী ছোট ভাই ফুমিহিতো এবং দ্বিতীয় স্থানে আছেন ফুমিহিতোর ১৯ বছর বয়সী পুত্র প্রিন্স হিসাহিতো। আর তালিকার তৃতীয় তথা সর্বশেষ যোগ্য প্রার্থী হলেন সম্রাটের ৯০ বছর বয়সী চাচা।

আইনের এই সংশোধনী না এলে প্রিন্স হিসাহিতোর কোনো পুত্রসন্তান না হলে জাপানের রাজবংশের উত্তরাধিকার ধারা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে ছিল। তবে নতুন বিলের আওতায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর রাজপরিবার থেকে বাদ পড়া ১১টি সাবেক রাজকীয় শাখার পুরুষ বংশধরদের আবারও পরিবারে দত্তক হিসেবে ফিরিয়ে আনার সুযোগ তৈরি হলো।

জাপানে নারী সম্রাটের পক্ষে ব্যাপক জনমত থাকা সত্ত্বেও দেশটির রক্ষণশীল রাজনৈতিক মহল বরাবরই পুরুষ-তান্ত্রিক উত্তরাধিকারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এবং অন্যান্য রক্ষণশীল নেতারা রাজপরিবারের বৈধতা রক্ষায় কেবল পুরুষদেরই সিংহাসনে বসার নিয়ম বহাল রাখার পক্ষে জোর সওয়াল করে আসছেন। অথচ জাপানের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, দেশটির ৭০ থেকে ৮৩ শতাংশ সাধারণ মানুষ নারী সম্রাটকে সিংহাসনে দেখার পক্ষে জোরালো সমর্থন জানিয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category