বিল্লাল মোল্লা, কুমিল্লা উত্তর : ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা। মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে নির্মাণকাজ চলায় প্রায় ২৫ কিলোমিটারজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ।
দীর্ঘ সময় ধরে যানজটে আটকে থাকা যাত্রীদের অনেকেই রাস্তায় অসহায়ভাবে অপেক্ষা করছেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা একই স্থানে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে গণপরিবহন ও পণ্যবাহী যানবাহনকে। এতে যাত্রীদের পাশাপাশি চালক ও পরিবহন শ্রমিকদেরও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম এই মহাসড়কে বড় ধরনের নির্মাণকাজ শুরু করার আগে সাধারণ মানুষ ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের আগাম সতর্কবার্তা ও বিকল্প ব্যবস্থার বিষয়ে জানানো প্রয়োজন ছিল। পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা না থাকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে বলে অভিযোগ তাদের।
যানজটে আটকে থাকা অনেক যাত্রী জানান, দীর্ঘ সময় গাড়িতে বসে থাকার কারণে শিশু, নারী ও বয়স্কদের দুর্ভোগ বেড়েছে। অন্যদিকে চালকরাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে করতে গাড়ির ভেতরেই ঘুমিয়ে পড়ছেন। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে জরুরি রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সগুলোতে। দীর্ঘ যানজটে আটকে থেকে জরুরি চিকিৎসা নিতে যাওয়া রোগীদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীরা বলছেন, যানজটের কারণে কোনো রোগীর চিকিৎসা পেতে দেরি হলে তার দায় কে নেবে—এ প্রশ্নের উত্তরও প্রয়োজন।
সাধারণ যাত্রীদের দাবি, সাময়িকভাবে যানজট নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের স্থায়ী যানজট নিরসনে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। নির্মাণকাজ চলাকালে বিকল্প সড়ক ব্যবস্থাপনা, ট্রাফিক পুলিশের কার্যকর উপস্থিতি এবং জরুরি যানবাহনের জন্য আলাদা করিডোর নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
ভুক্তভোগী যাত্রীদের ভাষ্য, দেশের অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কে বারবার দীর্ঘ যানজট তৈরি হওয়া কোনোভাবেই স্বাভাবিক হতে পারে না। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে স্থায়ী যানজটমুক্ত করার উদ্যোগ নিতে হবে।