প্রভাত সংবাদদাতা, পিরোজপুর: নদীভাঙনের প্রতি বছরই বদলে যাচ্ছে পিরোজপুরের নদীর তীরবর্তী এলাকার চিত্র। কচা, বলেশ্বর, কালিগংগা ও সন্ধ্যা নদীর তীব্র ভাঙনে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি, সড়কসহ নানা স্থাপনা। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র যেতে বাধ্য হচ্ছেন অনেক পরিবার। ভাঙন রোধে স্থায়ী ও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা পরিবারগুলি।
পিরোজপুর সদর উপজেলার হুলারহাট, দেওনাখালি, নেছারাবাদ উপজেলার ছারছিনা, কাউখালী উপজেলার আমড়া ঝুড়ি ফেরিঘাট মঠবাড়িয়ার খেতাচিরা, মাঝেরচর ও ইন্দুরকানী উপজেলার কয়েক হাজার পরিবার নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কারো কারো জায়গা হয়েছে আশ্রয়ণ প্রকল্পে আবার কেউ জীবিকার তাগিদে চলে গিয়েছেন অন্য কোথাও। কচা, সন্ধ্যা, বলেশ্বর, কালী গঙ্গা নদীর অব্যাহত ভাঙনে একের পর এক বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, আবাদি জমি, সড়কসহ সরকারি স্থাপনা। নদীর করাল গ্রাসে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে পরিবারগুলো। বছরের পর বছর ধরে ভাঙনের শিকার হলেও এখনো মেলেনি কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা। পিরোজপুরের সাতটি উপজেলার প্রায় সবগুলোই নদীবেষ্টিত। বর্তমানে ৬টি পোল্ডারে প্রায় ৩৩৩ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, বিগত বছরগুলোতে প্রাকৃতিক দুর্যোগে নদী তীরবর্তী এলাকার কয়েক হাজার পরিবার তাদের সবটুকু হারিয়েছে নদী ভাঙনে। অধিকাংশ এলাকায় বেড়ি বাঁধ না থাকা ও ভাঙা থাকার কারণে হুমকির মুখে রয়েছে এ সব এলাকার বাসিন্দারা। দ্রুত টেকসই বেড়িবাঁধ ও সাইক্লোন সেন্টার নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা।
৮০ বছরের বৃদ্ধা বুরুজান বিবি বলেন, ‘এই নদীতে আমার সব শেষ হইয়া গেছে। আমার অনেক জায়গা ছিল, নদী ভাঙনে আমি সব হারাইছি। এহন আমার একটা ঘর আছে, সরকার যদি আমাদের দিকে না তাকায় তাইলে সেটাও থাকবে না। এই গ্রামে ভালো বেরিবাঁধ দরকার। যদি বেরিবাঁধ হয় তাইলে একটু শান্তি থাকতে পারমু।’
পিরোজপুর সদর উপজেলার কৈবর্ত খালি গ্রামের নদীপাড়ের মসজিদের ইমাম রফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের দুঃখের শেষ নেই, এত পরিমাণ নদী ভাঙন, কিন্তু সরকার দেখে না। সন্তানরা ঠিকমতো স্কুল মাদরাসায় যেতে পারে না। এ বছর মনে হয় মসজিদটাও আর থাকবে না, নদীতে চলে যাবে। আমাদের এলাকায় ভালো একটা সাইক্লোন সেন্টারও নেই, যে বন্যা হলে সেইখানে থাকবো। সরকারের কাছে দাবি জানাই আমাদের একটা টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ কইরা দেওয়া হোক।
জেলে আজমল খান বলেন, আমাদের এলাকায় আগে অনেক মানুষ থাকতো কিন্তু এখন থাকে না। থাকবে কেমনে জায়গা জমি যতটুকু ছিল সব নদীতে চলে গেছে। জোয়ার হইলে পানিতে সব তলায় যায়। বন্যার সময় আমাদের কোথাও যাওয়ার জায়গা থাকে না। নদী ভাঙন যেভাবে হচ্ছে তাতে আর থাকা যাবে না।
পিরোজপুর পানি উন্নয়ন বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আবু জাফর মো. রাশেদ খান বলেন, পিরোজপুর জেলায় ৬ টি পোল্ডারে ৩৩৩ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বেড়িবাঁধ রয়েছে। কিছু স্থানে অরক্ষিত অবস্থায় আছে। এছাড়াও কোন স্থানে ভাঙন দৃশ্যমান হলে জরুরী ভিত্তিতে তা বাস্তবায়ন করা হবে। সন্ধ্যা, বলেশ্বর, কচা নদী ভাঙনের ফিজিবিলিটি স্টাডি চলমান রয়েছে, এই ফিজিবিলিটি স্টাডির কাজ সম্পন্ন হলে বোঝা যাবে কোন কোন স্থানে ভাঙন বেশি রয়েছে এবং সেখানে ভাঙন রোধে কাজ করা হবে।