• রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৮ অপরাহ্ন
Headline
নুহাশপল্লীতে শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় হুমায়ূন আহমেদকে স্মরণ অপরিকল্পিত নগরায়ণে বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠছে ঢাকা বিমানবন্দরের ক্যানোপিতে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের অবাধ প্রবেশ নির্বাচন কে করবে, না করবে এটা আদালত ও ইসির বিষয়: রিজভী আমার লজ্জা হয় এদের মতো একটি বিরোধীদল সংসদে: হারুনুর রশিদ কর্মপরিবেশ উন্নয়নে বাংলাদেশ নতুন যাত্রা শুরু করেছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ক্ষমতার লোভে গণতন্ত্রকে হুমকিতে ফেলা যাবে না: ইশরাক ভারী বৃষ্টিতে বাড়ছে নদীর পানি, ৫ জেলায় আকস্মিক বন্যার শঙ্কা ভবনের চিলেকোঠায় বাবা ও ছেলেকে আটকে নির্যাতন-চাঁদা আদায়, গ্রেফতার ৩ শাপলা চত্বরে ৬১ জনকে হত্যার তথ্য মিলেছে, শনাক্ত ৫৮: চিফ প্রসিকিউটর

মাদক নিয়ন্ত্রণে আগ্নেয়াস্ত্র, ডগ স্কোয়াডের সুবিধা পাচ্ছে অধিদপ্তর

Reporter Name / ১ Time View
Update : শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

প্রভাত রিপোর্ট: মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে অভিযানে যেতে হলে এত দিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা দরকার হতো মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের। কারণ, তাদের কাছে কোনো অস্ত্র থাকত না। অভিযানে গিয়ে অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের মারধরের শিকার হওয়ার নজিরও রয়েছে। তবে এখন আর সেই সীমাবদ্ধতা থাকছে না। আগ্নেয়াস্ত্রের পাশাপাশি প্রশিক্ষিত জনবল, অস্ত্রাগার, ডগ স্কোয়াডের মতো নানা ধরনের সুবিধা যুক্ত হচ্ছে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে।
মাদক চোরাচালানকারীসহ এ সংক্রান্ত অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখার সুযোগও পাচ্ছে অধিদপ্তর। বিশেষায়িত সংস্থা হিসেবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীরা এখন থেকে নির্ধারিত ইউনিফর্ম পরে আগ্নেয়াস্ত্র ও ডগ স্কোয়াড নিয়ে মাদকদ্রব্য উদ্ধারে অভিযান চালাবেন। সংস্থাটি মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল গঠন করে এ সংক্রান্ত মামলার দ্রুত বিচারও করতে পারবে।
সম্প্রতি জাতীয় সংসদে পাস হওয়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন-২০২৬ এ এসব ক্ষমতা ও সুবিধা দেওয়া হয়েছে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে। বৃহস্পতিবার আইনটি গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। সংশোধিত আইনে একদিকে যেমন মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সুযোগ বাড়ানো হয়েছে, অন্যদিকে বিশেষ তল্লাশি ব্যবস্থা, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি এবং নতুন ধরনের মাদক মোকাবিলায় একাধিক বিধান যুক্ত করা হয়েছে।
আইনটি সংশোধনের ফলে মাদক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে নতুন গতি আসবে বলে মনে করছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ। তাঁর মতে, মাদক শনাক্তে ডগ স্কোয়াড ব্যবহার, উদ্ধার করা আলামত রাখার জন্য মাদক নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়গুলোতে মালখানা স্থাপন এবং ট্রাইব্যুনাল গঠন করে মাদক মামলার বিচার সম্পন্ন করাটা সার্বিক কার্যক্রমকে অনেক বেশি গতিশীল করবে।
সংশোধিত আইনে বলা হয়েছে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর পোশাক ও আগ্নেয়াস্ত্রসজ্জিত জনবলসংবলিত একটি বিশেষায়িত সংস্থা হিসেবে গণ্য হবে। অধিদপ্তরের আগ্নেয়াস্ত্রের প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সরকার নির্ধারিত পদ্ধতিতে আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ বহন, ব্যবহার ও সংরক্ষণ করবেন। অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়সহ সব অফিস ভবনে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা ও যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রশিক্ষিত জনবল নিয়োগ করে নিজস্ব অস্ত্রাগার নির্মাণ করা হবে। অধিদপ্তরের অধীন সব কার্যালয়ে হাজতখানা স্থাপন এবং আদালতে তোলার আগে সেখানে ফৌজদারি কার্যবিধিতে গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে আটক রাখা যাবে। পুরুষ ও নারীর জন্য হাজতখানায় পৃথক ব্যবস্থা থাকবে। শিশুদের জন্য শিশু আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ডিজিটাল ডিভাইস, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, ইলেকট্রনিক যোগাযোগব্যবস্থা বা অন্য কোনো ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে মাদকদ্রব্য কেনাবেচা, সরবরাহ, বিজ্ঞাপন বা এ–সংক্রান্ত কোনো অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা বা করার চেষ্টা করলে তারা এই আইনে অপরাধী হবে। এই আইনের ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি কোনো অপরাধ করলে তিনি যেকোনো মেয়াদের কারাদণ্ডে অথবা সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ডে এবং অনূর্ধ্ব ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। এ ছাড়া আন্তর্জাতিকভাবে বা কোনো সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের মাধ্যমে মাদকসংক্রান্ত অপরাধ করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যেকোনো মেয়াদের কারাদণ্ডে বা অনূর্ধ্ব ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
এই আইনের অধীনে পাঁচ বছর বা ততোধিক মেয়াদের কারাদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধ আমলে নেওয়া ও বিচারের জন্য সরকার প্রতিটি জেলা বা মহানগর এলাকার জন্য ভৌগোলিক সীমা নির্ধারণ করে এক বা একাধিক ট্রাইব্যুনাল গঠন করবে। এগুলো মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল নামে অভিহিত হবে। অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এই ট্রাইব্যুনালের বিচারক হবেন। কোনো জেলা বা মহানগর এলাকার জন্য মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল স্থাপন করা হলে ওই এলাকায় অপরাধ আমলে নেওয়া ও বিচার করার ক্ষেত্রে আদালতের এখতিয়ার বিলুপ্ত হবে এবং এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে বিচারাধীন এসব মামলা ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরিত হবে।
আইন সংশোধনের মধ্য দিয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে আধুনিকায়ন ও শক্তিশালী করা হয়েছে বলে মনে করছেন পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আবদুল কাইয়ুম। তিনি গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, মাদক বেচাকেনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ হয়ে ওঠে। সে কারণে আগে অভিযান চালাতে গিয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা হামলার শিকার হতেন। এখন তাঁরা সুসংগঠিত হয়ে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে মাদক সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে পারবেন। আর ডগ স্কোয়াড মাদক শনাক্তে তাঁদের সহায়তা করবে। অভিযানগুলো সফলতার সঙ্গে করতে পারলে এবং অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার হলে মাদকসংক্রান্ত অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আসবে।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category