প্রভাত সংবাদদাতা,রাণীনগর : নওগাঁর রাণীনগরে চলতি রোপা-আমন মৌসুমে প্রায় ১ হাজার হেক্টর জমিতে বীজতলা প্রস্তুত থাকলেও উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে রোপা-আমন মৌসুমের আবাদযোগ্য জমি বন্যার পানিতে তলিয়ে থাকায় পুরোদমে ধান লাগাতে পারছেন না চাষিরা। ধীর গতিতে পানি নামতে শুরু করলেও ধান লাগানোর মতো পরিবেশ তৈরি না হওয়ায় লক্ষ্য মাত্রার বড় একটা অংশ অর্জিত না হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। তারপরও কৃষি বিভাগ বলছে আমাদের হাতে এখনো ধান লাগানোর সময় আছে তাই চাষিদের হতাশা হওয়ার কোন কারণ নাই। লাগাতার বৃষ্টিপাতের কারণে উপজেলার মাঠ পর্যায়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় কিছু বীজতলা নষ্ট হলেও ধান লাগানোর মতো চারা চাষিদের জমিতে প্রস্তুত আছে। ধান লাগানোর উপযুক্ত সুযোগ পেলেই চাষিরা কমর বেধে ধান লাগানোর কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়বেন। উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে ইতিমধ্যে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার হেক্টর জমিতে রোপা-আমন ধান লাগানো শেষ হয়েছে।
জানা গেছে, চলতি রোপা-আমন মৌসুমে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে প্রায় ১৯ হাজার ৭০ হেক্টর জমিতে ধান চাষের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি এই পরিমাণ জমিতে ধান রোপণের জন্য প্রায় ৯শ’ ১৫ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়। আবহাওয়া ভালো থাকার কারণে রোগ বালাই না থাকায় চারা ভালো হয়েছে। উপজেলার গোনা ইউনিয়নের ভবাণীপুর গ্রামের আব্দুস ছানা, লতিফ শেখ, শহিদুল চৌধুরীসহ বেশ কয়েকজন কৃষক জানান, রোপা-আমন লাগানোর উপযোগী আবহাওয়া থাকায় আমরা সুযোগ বুঝে উচ্ুঁ জমিগুলোতে ধান লাগানো শুরু করেছি। তবে মাঠের নিচুৃ জমিতে কোথাও হাঁটু পানি কোথাও কোমর পানি থাকায় চারা হাতে থাকলেও ধান লাগানো যাচ্ছে না।
রাণীনগর উপজেলা কৃষি অফিসার মোস্তাকিমা খাতুন জানান, চলতি মৌসুমে এই উপজেলায় প্রায় ১৯হাজার ৭০ হেক্টর জমিতে রোপা-আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রায় সাড়ে ৫হাজার হেক্টর জমিতে ধান লাগানো হয়েছে। ৮টি ইউনিয়নের মধ্যে প্রায় ৫টি ইউনিয়নের বড় অংশ আবাদযোগ্য জমি পানিতে তলিয়ে আছে। তাই এই জমিগুলোতে চাষিরা সঠিক সময়ে ধান লাগাতে পারছে না। যেহেতু আমাদের হাতে এখনো সময় আছে সেহেতু হতাশা হওয়ার কিছু নেই। টানা কয়েকদিন রোদ হলেই নিম্নাঞ্চলের পানিগুলো কমে যাবে। তাই আমরা এখনো লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের আশাবাদি।