• রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৫ অপরাহ্ন
Headline
নুহাশপল্লীতে শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় হুমায়ূন আহমেদকে স্মরণ অপরিকল্পিত নগরায়ণে বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠছে ঢাকা বিমানবন্দরের ক্যানোপিতে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের অবাধ প্রবেশ নির্বাচন কে করবে, না করবে এটা আদালত ও ইসির বিষয়: রিজভী আমার লজ্জা হয় এদের মতো একটি বিরোধীদল সংসদে: হারুনুর রশিদ কর্মপরিবেশ উন্নয়নে বাংলাদেশ নতুন যাত্রা শুরু করেছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ক্ষমতার লোভে গণতন্ত্রকে হুমকিতে ফেলা যাবে না: ইশরাক ভারী বৃষ্টিতে বাড়ছে নদীর পানি, ৫ জেলায় আকস্মিক বন্যার শঙ্কা ভবনের চিলেকোঠায় বাবা ও ছেলেকে আটকে নির্যাতন-চাঁদা আদায়, গ্রেফতার ৩ শাপলা চত্বরে ৬১ জনকে হত্যার তথ্য মিলেছে, শনাক্ত ৫৮: চিফ প্রসিকিউটর

১০ গোলের আনন্দে এমবাপ্পের রেকর্ড, সাকার হ্যাটট্রিক

Reporter Name / ৩ Time View
Update : রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬

প্রভাত স্পোর্টস : বিশ্বকাপে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড এসেছিল শিরোপা জিততে। সেখানে তৃতীয় হওয়ার ম্যাচ খেলাটা দুই দলের জন্যই বেশ কষ্টের। দুই দলের কোচও জানিয়েছিলেন, এই ম্যাচ কেউ খেলতে চায় না। ৬ গোল করা হ্যারি কেইন যেমন বেঞ্চেই ছিলেন। শেষ বাঁশি বাজার পর তাঁর কি একটু আক্ষেপ হয়নি?
কেইন যেহেতু গোল করতে ভালোবাসেন, ১০ গোলের ম্যাচটা বেঞ্চে বসে দেখে মনে মনে একটু কেমন কেমন তো লাগাই স্বাভাবিক।
বুকায়ো সাকা যেমন হ্যাটট্রিক করলেন, কিলিয়ান এমবাপ্পে জোড়া গোল। তাতে ভাঙল বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড। ফাইনালে এমবাপ্পেকে টপকানোর সুযোগ থাকছে লিওনেল মেসির। কিন্তু টপকে যে যাবেনই, সেটা তো আর নিশ্চিত নয়। এমবাপ্পেকে তাই এ ম্যাচেই যা করার করতে হতো। বিশ্বকাপে সবচেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে এটাই ছিল একমাত্র আগ্রহের বিষয়: গোল্ডেন বুটের লড়াই কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়!
কিন্তু মায়ামির থ্রিলার দেখে থাকলে এটাও নিশ্চিত, গোলের পর গোলে চাপা পড়েছে শুধু গোল্ডেন বুটের সমীকরণ নিয়ে আগ্রহও। দশে মিলে করি গোল বলে যদি কিছু থেকে থাকে, এটা তবে সেই ম্যাচ। যেখানে ফ্রান্সের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের ৬-৪ গোলের জয়কাব্যে পর্ব দুটি। প্রথমটি যদি হয় ইংরেজ শাসন, পরেরটি তাহলে ইংরেজদের ফরাসিভীতি। কারণ? ইংল্যান্ড প্রথমার্ধে এগিয়ে ছিল ৪-০ গোলে।
অথচ ধারাভাষ্যকার দুই অর্ধেই বললেন, প্রত্যাশার চাপ নেই, আনন্দ নিয়ে খেলছে দুই দল। ওদিকে দুই কোচের একাদশেই সাতটি করে বদল। কাগজ-কলম বলছিল, কেউ এই ম্যাচ খেলতে চায় না। কিন্তু মাঠের খেলা দেখে মনে হচ্ছিল, ফাইনাল নয় তো! ২ মিনিট ৪০ সেকেন্ডে বক্সের বাইরে থেকে ডেক্লান রাইসের দারুণ শটে এই ১০ গোলের অভিযাত্রার শুরু। এরপর ১৮ মিনিটে এজেরি কনসার হেডে গোল, ৩৭ ও ৪৫+১ মিনিটে বুকায়ো সাকার জোড়া গোলে ফ্রান্সকে ভীষণ অসহায় লাগছিল। মনে হয়েছে, সেমিফাইনালে আত্মসমর্পণের ঘোর কাটেনি।
ভুল। ৪৮ মিনিটে এমবাপ্পের বাঁ পায়ের দারুণ ফিনিশিংয়ে একটু একটু করে ঘোর কাটতে শুরু হলো গ্যালারির। মাইকেল ওলিসের পাস থেকে করা এ গোলে মেসিকে পেছনে ফেলে গোল্ডেন বুট জয়ের দৌড়ে এমবাপ্পে সবার ওপরে। এবার বিশ্বকাপে তাঁর নবম গোল। ম্যাচে ফ্রান্স তখন ফিরতে শুরু করেছে। প্রথমার্ধে ইংল্যান্ড যেমন তেড়েফুঁড়ে খেলেছে, যেন সেটারই জবাব। সেই ধারাবাহিকতায় ৫৪ মিনিটে বারকোলার গোল। এর ১২ মিনিট পরই সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। এমবাপ্পের গোল এবং বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড (২২)। পেছনে পড়ল মেসির ২১ গোল। এবারও এমবাপ্পের পাসদাতা সেই ওলিসেই। বিশ্বকাপে এটা তাঁর সপ্তম অ্যাসিস্ট। এক বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি অ্যাসিস্টের রেকর্ড এখন ফরাসি মিডফিল্ডারের। পেছনে ফেললেন কাকে? পেলে! ১৯৭০ বিশ্বকাপে—ছয়টি।
ম্যাচে স্কোর ৪-৩ হওয়ার পর ৮৭ মিনিটে পেনাল্টি থেকে বুকায়ো সাকার গোলে একটু ভীতি কাটায় ইংল্যান্ড। বিশ্বকাপে ফ্রান্সের বিপক্ষে এটি দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক। সাকার আগে কে? পেলে! ১৯৫৮ বিশ্বকাপে।
গোল উৎসবে যোগ দিতে দেরি করে ফেলেন দেম্বেলে ও বদলি নামা জুড বেলিংহাম (৭)। দুজনের গোলই যোগ করা সময়ে। শেষ বাঁশি বাজার পর দেখা গেল ইংল্যান্ড জিতেছে এবং বিশ্বকাপে গত ৬০ বছরের মধ্যে এটা তাদের সেরা সাফল্য—তৃতীয় স্থান। ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশমের বিদায়টা আনন্দময় হলো না। শুধু গোলের আনন্দে পাল্টাল রেকর্ড বইয়ের পাতা। বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান নির্ধারণীতে এটাই সর্বোচ্চ গোলের ম্যাচ। পেছনে পড়ল কোন ম্যাচ? ১৯৫৮ বিশ্বকাপের ৬-৩, পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে জিতেছিল এই ফ্রান্সই। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটি যৌথভাবে তৃতীয় সর্বোচ গোলের ম্যাচ।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category