• শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২৮ অপরাহ্ন

দশমিনায় নদীর ভাঙনে ২শতাধিক কবর বিলীন মানববন্ধন অব্যাহত,ঘটনাস্থলে পরিদর্শন টিম

Reporter Name / ৪ Time View
Update : শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নাসির আহমেদ,দশমিনা: পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলা সদরের তেঁতুলিয়া নদীর অব্যাহত ভাঙনে হাজীরহাট ও ঢনঢনিয়া এলাকায় বিগত ২০ থেকে ২৫ বছরের ২শতাধিক কবর,বসতঘর,সড়ক ও ফসলি জমি বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন কবলিত এলকার উত্তর পাশে পানি উন্ন্য়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধের দুটি অংশ নদীতে ধসে পড়ায় পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে। ফলে কবর,বসতঘর ও ফসলি জমি জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়। তেঁতুলিয়া নদীর বেড়িবাঁধের ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত মহাপরিচালক(পশ্চিমাঞ্চল) মো.মুখলেসুর রহমান ও পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক ড.মোহাম্মদ শহীদ হোসেন। নদীর ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের খোঁজখবর নেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন। নদীর ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারসহ স্থানীয়রা প্রতিনিয়ত মানববন্ধন করছে।
উপজেলা সদরের সাথে নৌপথে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হাজীরহাট লঞ্চঘাটসহ জামে মসজিদটি হুমকির মধ্যে রয়েছে। হাজীরহাট-বাঁশবাড়িয়া সড়কের প্রধান বেড়িবাঁধ ও নদী তীরবর্তীর একাংশ নদীর ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। এলাকার বাসিন্দারা ভাঙনের আতংকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য অন্যত্র ছুটছে। বিগত ৫০ বছরের মধ্যে এই রকম ভয়াবহ নদীর ভাঙন কেউ দেখেনি। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙন কবলিত এলাকায় জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে। তেঁতুলিয়া নদীতে প্রবল স্রোত ও পানির চাপে সড়ক ও বেড়িবাঁধ নদীতে ধসে পড়ে যায়। উপকূলীয় জনপদ হিসাবে পরিচিত দশমিনা উপজেলার বাঁশবাড়িয়া,দশমিনা,রনগোপালদী ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রাম নদীর ভাঙনে কবলে রয়েছে। ভাঙন কবলিত এলাকায় নদীশাসন ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মান করার কথা থাকলেও বাস্তবে এর কিছুই হয়নি। ফলে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে নদীতে ভাঙন দেখা দেয়। ভাঙন রোধে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহন না করায় শত শত পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে। নদীর ভাঙনে ফসলি জমি,বসতঘর,পারিবারিক কবরস্থান, সড়ক, বেড়িবাঁধ নদীতে বিলীন হয়ে যাবার পরও কারও টনক নড়ছে না।
উপজেলার তেঁতুলিয়া নদীর আগ্রাসী ভাঙনে হাজীরহাট এলাকার অসহায় মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছে। যে কোন মুহুর্তে শেষ সম্বলটুকু নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। সকলের চোখে পানি এবং আহাজারীতে আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। নদীর ভাঙনের কারনে কবরস্থান থেকে বাপ-দাদার মরদেহ পূন কবর দেবার জন্য সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এই দৃশ্য দেখে অনেকের চোখেই পানি চলে এসেছে। অনেকে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছুটে চলছে। আবার কারও থাকার মতো এক টুকরা জমিও নেই। ফলে এলাকার বাসিন্দারা অজানা পথেই ছুটে চলছে। উপজেলা সদরের হাজীরহাট এলাকায় তেঁতুলিয়া নদীর করাল গ্রাসে অব্যাহত ভাঙন প্রতিরোধ, তীররক্ষা বাঁধ, সড়ক, বেড়িবাঁধ ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদেরকে পুর্নবাসনের দাবীতে ভুক্তভোগীরা মানববন্ধন করেছে। গত বুধবার থেকে হাজীরহাট লঞ্চঘাট সংলগ্ন ভাঙন প্রবন এলাকার ঢনঢনিয়া সড়কে প্রতিনিয়ত মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন,শুধু জিওব্যাগ ফেলে সাময়িক ভাবে নদীর ভাঙন রোধ করা সম্ভব নয়। জরুরী টেকসই নদীমাসন কার্যক্রম বাস্তবায়নসহ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে পুর্নবাসন করা প্রয়োজন। তারা আরও বলেন,মঙ্গল ও বুধবার এই দুইদিনে নদীতে পানির চাপ ও তীব্র স্রোতে হাজিরহাটে ব্যাপক ভাঙন দেখা দেয়। নদীর ভাঙনে জিওব্যাগ,পাকা সড়ক ও ২০টি কবর নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। মানববন্ধনে এলাকাবাসীর সাথে স্থানীয় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও অংশ নেয়। এদিকে গতকাল শনিবার সকালে তেঁতুলিয়া নদীর প্রবল স্রোতে হাজিরহাট এলাকায় বেড়িবাঁধের দুটি জায়গায় ফাটল দেখা দেয়। উপজেলা প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category