প্রভাত অর্থনীতি: মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকাল সোয়া ১০টার দিকে শ্রমিকরা তেজগাঁওয়ের লাভ রোডসংলগ্ন মূল সড়কটি অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে ওই সড়কে যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় দুই ঘণ্টা অবরোধের পর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শ্রমিকেরা সড়ক ছাড়েন। এরপর ওই এলাকায় যান চলাচল শুরু হয়।
তেজগাঁও শিল্প এলাকা থানা পুলিশ জানিয়েছে, বকেয়া পাওনা আদায়ের দাবিতে শ্রমিকরা রাস্তায় নামেন। পুলিশ আরও জানায়, অবরোধের কারণে আশেপাশের সড়কগুলোতে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়েছিল। এ সময় সড়কের দুই পাশে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। তবে শ্রমিকরা সড়ক ছাড়ার পর যান চলাচল শুরু হয়েছে।
তেজগাঁও শিল্প এলাকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান জানান, প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জন শ্রমিক এই বিক্ষোভে অংশ নেন।
শ্রমিকরা জানান, তারা বকেয়া বেতনের পাশাপাশি শ্রম আইন অনুযায়ী অর্জিত ছুটির টাকা, বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের বকেয়া, নোটিশ পে, চার মাসের ক্ষতিপূরণ ও চাকরিকালীন অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দাবি করছেন। শ্রমিকদের পক্ষ থেকে বিতরণ করা একটি লিফলেটের তথ্য অনুযায়ী, নাসা মেইনল্যান্ডের আওতাধীন নাসা নিট, নাসা অ্যাপারেলস ও ওয়েস্টার্ন ড্রেসেসের সাধারণ কর্মী থেকে শুরু করে ম্যানেজার পর্যন্ত সবার মে মাসের মজুরি পরিশোধ; ২০২৫ সালের অর্জিত ছুটির টাকা প্রদান; ২০২৫ সালের বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের বকেয়া পরিশোধ ও নোটিশ পে বিল নিষ্পত্তির দাবি জানানো হয়েছে।
এছাড়াও শ্রমিকরা শ্রম আইন অনুযায়ী চার মাসের মজুরি ও ভাতা (১২০ দিনের সমপরিমাণ) এবং শ্রম বিধিমালা অনুযায়ী সব শ্রমিক-কর্মচারীর জন্য শতভাগ সার্ভিস বেনিফিট প্রদানের দাবি করেছেন। লিফলেটে আরও বলা হয়েছে, মজুরি ও সার্ভিস বেনিফিট-সংক্রান্ত এসব পাওনা ২০ জুমের সরাসরি কারখানায় নগদ টাকায় পরিশোধ করতে হবে। এর পাশাপাশি পাওনা পরিশোধের প্রক্রিয়া চলাকালীন পুলিশি মামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, হুমকি, ক্ষমতার অপব্যবহার বা শারীরিক লাঞ্ছনাসহ কোনো ধরনের হয়রানি না করার জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন শ্রমিকরা। এই বিষয়ে নাসা গ্রুপের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।