প্রভাত বিনোদন: বিশ্বজুড়ে সিনেমাপ্রেমীদের কাছে মার্ভেলের ‘ওয়েব-স্লিঙ্গার’ বা মাকড়সা মানব স্পাইডার-ম্যানের জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী। তবে কেবল জনপ্রিয়তাই নয়, বক্স অফিসেও যে এই ফ্র্যাঞ্চাইজিটি একেকটি যেন সোনার খনি, তা আবারও প্রমাণিত হলো। আগের সব রেকর্ড ভেঙে চুরমার করে টম হল্যান্ডের নতুন সিক্যুয়েল।
চলতি শতকে এখন পর্যন্ত ফ্র্যাঞ্চাইজির ১১টি সিক্যুয়েল মুক্তি পেয়েছে। প্রতিটি সিনেমার আয় বলে দেয়, এ যেন জাদুর কাঠি। ২০০২ সাল থেকে মুক্তি পাওয়া এই সিক্যুয়েলগুলো আয়ে নিজেদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় মেতে ওঠে। মার্ভেল স্টুডিওস এবং সনি পিকচার্সের এই যৌথ জাদু সব সময়ই আয়ের দিক থেকে নতুন রেকর্ড গড়েছে।
১১. ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ (২০২৬)
মাত্র কয়েক দিন আগে মুক্তি পাওয়া এই নতুন সিক্যুয়েলটি বক্স অফিসে তুমুল সাড়া ফেলেছে। সিনেমাটি অল্প সময়ে বিশ্বজুড়ে ১ বিলিয়ন (১০০ কোটি) ডলার আয়ের মাইলফলক স্পর্শ করেছে। উত্তর আমেরিকার বক্স অফিসে প্রথম সপ্তাহে ৩৬০ মিলিয়ন ডলার আয় করে এটি ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’-এর রেকর্ড ভেঙে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ডমেস্টিক ওপেনিংয়ের রেকর্ড নিজের করে নিয়েছে। এখন পর্যন্ত সিনেমাটির আয় ১.১৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
১০. ‘স্পাইডার-ম্যান: অ্যাক্রস দ্য স্পাইডার-ভার্স’ (২০২৩)
মাইলস মোরেলেসের মাল্টিভার্স অভিযানের এই সিক্যুয়েলটি অ্যানিমেশন দুনিয়ায় নতুনত্ব এনে দেয়। অসাধারণ কমিক-বুক স্টাইলের ভিজ্যুয়াল, দুর্দান্ত ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক এবং চমৎকার ক্লিফহ্যাঙ্গার গল্পের কারণে এটি প্রথম পর্বের চেয়েও আয়ে বেশি সাফল্য পায়। বিশ্বজুড়ে দর্শক-সমালোচকদের মন জয় করে সিনেমাটি বক্স অফিসে ৬৯০.৯ মিলিয়ন ডলার আয় করে।
৯. ‘স্পাইডার-ম্যান: নো ওয়ে হোম’ (২০২১)
টম হল্যান্ডের তৃতীয় এই একক সিনেমাটি মহামারি–পরবর্তী সময়ে সিনেমা হলে দর্শক ফিরিয়েছিল। সিনেমাটি বিশ্বজুড়ে মোট ১.৯২ বিলিয়ন ডলার আয় করে। টোবি ম্যাগুয়ার ও অ্যান্ড্রু গারফিল্ডের নস্টালজিক উপস্থিতির কারণে এটি সনি পিকচার্সের ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি উপার্জনকারী সিনেমা হিসেবে নাম লেখায়।
৮. ‘স্পাইডার-ম্যান: ফার ফ্রম হোম’ (২০১৯)
এই সিক্যুয়েলটিও বক্স অফিসে দারুণ সফল দেখিয়েছিল। সিনেমাটির মোট বিশ্বব্যাপী আয় ছিল ১.১৩ বিলিয়ন ডলার। অন্যান্য সিক্যুয়েলের বক্স অফিস আয় টম হল্যান্ডের সিরিজ ছাড়াও অতীতের স্পাইডার-ম্যান সিক্যুয়েলগুলোও আয়ের দিক থেকে বেশ শক্তিশালী অবস্থানে ছিল।
৭. ‘স্পাইডার-ম্যান: ইনটু দ্য স্পাইডার-ভার্স’ (২০১৮)
মাইলস মোরেলেসকে মূল চরিত্র এনে তৈরি করা এই অ্যানিমেটেড মাস্টারপিসটি সুপারহিরো সিনেমার সংজ্ঞাই যেন বদলে দেয়। সিনেমাটির ভিজ্যুয়াল স্টাইল এবং মাল্টিভার্সের দারুণ গল্প বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়ায়। সিনেমাটি সেরা অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্র হিসেবে অস্কার জয়ের পাশাপাশি বক্স অফিসেও বাজিমাত করে বিশ্বব্যাপী ৩৯৪.৭ মিলিয়ন ডলার আয় করে।
৬. ‘স্পাইডার-ম্যান: হোমকামিং’ (২০১৭)
মার্ভেল সিনেম্যাটিক ইউনিভার্সে টম হল্যান্ডের একক যাত্রা শুরু হয় এই সিনেমা দিয়ে। যে কারণে দর্শকদের সিনেমাটি নিয়ে তুমুল আগ্রহ ছিল। পিটার পার্কারের হাইস্কুল জীবন এবং আয়রন ম্যানের মেন্টরশিপ নিয়ে তৈরি চমৎকার গল্পটি বিশ্বব্যাপী দর্শকদের মন জয় করে। চমৎকার অ্যাকশন ও কমেডি কিছুর দৃশ্যের কারণে এটি সেই সময় বক্স অফিসে দারুণ সফল হয় এবং বিশ্বজুড়ে ৮৮০.২ মিলিয়ন ডলার আয় করে মাইলফলক স্পর্শ করে।
৫. ‘দ্য অ্যামেজিং স্পাইডার-ম্যান ২’ (২০১৪)
অ্যান্ড্রু গারফিল্ড অভিনীত এই সিক্যুয়েলটিতে পিটার পার্কারের ট্র্যাজিক প্রেম এবং শক্তিশালী ভিলেনদের সঙ্গে লড়াইয়ের গল্প ফুটিয়ে তোলা হয়। দুর্দান্ত ভিজ্যুয়াল এবং ইমোশনাল ক্লাইম্যাক্সের কারণে সিনেমাটি বিশ্বজুড়ে দর্শকদের নজর কাড়ে। যার ছাপ পরে বক্স অফিসে। সিনেমাটির বিশ্বব্যাপী প্রায় ৭০৯ মিলিয়ন ডলার আয় করে।
৪. ‘দ্য অ্যামেজিং স্পাইডার-ম্যান’ (২০১২)
অ্যান্ড্রু গারফিল্ডের নতুন স্পাইডার-ম্যান হিসেবে পথচলা শুরু হয় এই রিবুট সিনেমাটির মাধ্যমে। পিটার পার্কারের হারিয়ে যাওয়া মা–বাবা এবং লিজার্ড ভিলেনের সঙ্গে লড়াইয়ের এক ডার্ক ও বাস্তবসম্মত গল্প এখানে ফুটিয়ে তোলা হয়। ফ্র্যাঞ্চাইজির এই নতুন শুরুটি দর্শক দারুণভাবে লুফে নেয় এবং বিশ্বব্যাপী প্রায় ৭৫৮ মিলিয়ন ডলার আয় করে বক্স অফিসে বড় সাফল্য পায়।
৩. ‘স্পাইডার-ম্যান ৩’ (২০০৭)
টোবি ম্যাগুয়ারের ট্রিলজির এই শেষ পর্বে স্পাইডার-ম্যানের ব্ল্যাক স্যুট, স্যান্ডম্যান এবং ভেনমের সঙ্গে লড়াই দেখানো হয়। একাধিক ভিলেনের উপস্থিতি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া থাকলেও সিনেমাটি বক্স অফিসে ঝড় তোলে। দর্শকদের তুমুল আগ্রহের কারণে এটি বিশ্বজুড়ে রেকর্ড ৮৯৪.৯ মিলিয়ন ডলার আয় করে, যা ছিল সেই সময়ে রেকর্ড।
২. ‘স্পাইডার-ম্যান ২’ (২০০৪)
‘স্পাইডার-ম্যান ২’ সিনেমাটিতে পিটারের ব্যক্তিগত সংকট এবং ডক ওকের সঙ্গে লড়াই ফুটিয়ে তোলা হয়। এর চমৎকার গল্প এবং ট্রেনের আইকনিক অ্যাকশন দৃশ্য দর্শকপ্রিয়তার শীর্ষে ছিল। বিশ্বজুড়ে সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়ে সিনেমাটি বক্স অফিসে ৭৯৫.৯ মিলিয়ন ডলার আয় করে।
১. ‘স্পাইডার-ম্যান’ (২০০২)
টোবি ম্যাগুয়ার অভিনীত সিনেমাটি আধুনিক সুপারহিরো চলচ্চিত্রের ভিত্তি স্থাপন করে। পিটার পার্কারের স্পাইডার-ম্যান হয়ে ওঠার ক্ল্যাসিক গল্পটি বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসে। বক্স অফিস হিট হয়। গ্রিন গবলিনের সঙ্গে লড়াই এবং দারুণ রসায়ন দর্শকদের মুগ্ধ করেছিল। শুরুর সেই সিনেমাটি বিশ্বব্যাপী ৮২৫.৮ মিলিয়ন ডলার আয় করে নতুন ইতিহাস গড়ে। তারপরে একে একে ‘স্পাইডার-ম্যান’ সিরিজ জাদুর কাঠির মতো বক্স অফিস থেকে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার এনে দেয়।