• শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৩১ অপরাহ্ন

ব্রিকস সম্মেলনে নজর কাড়ছে চীনা প্রেসিডেন্টের সুসজ্জিত লিমোজিন

Reporter Name / ১০ Time View
Update : শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

প্রভাত ডেস্ক: ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শনিবার বসেছে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। দুই দিনের এ সম্মেলনে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে আরও কয়েকজন বিশ্বনেতার সঙ্গে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংও যোগ দিচ্ছেন। এ সফর ঘিরে ভূরাজনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি নজর কাড়ছে তাঁর সরকারি গাড়িটি। বাইরে থেকে দেখতে এটি এক রাজকীয় লিমোজিন। তবে ভেতরে এটি এক সামরিক দুর্গ। গাড়িটির নাম ‘হংছি এন৭০১’।
চীনা ভাষায় ‘হংছি’ শব্দের অর্থ ‘লাল পতাকা’। এটি দেশটির কমিউনিস্ট পার্টির আভিজাত্য ও ঐতিহ্যের প্রতীক। গাড়িটি তৈরি করেছে চীনের প্রাচীনতম রাষ্ট্রায়ত্ত গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘এফএডব্লিউ গ্রুপ’। ১৯৫৮ সাল থেকে চীনের শীর্ষ নেতৃত্বের জন্য এই ব্র্যান্ডের গাড়ি তৈরি করছে।
আগে বিদেশ সফরে চীনা নেতারা আয়োজক দেশের দেওয়া গাড়ি ব্যবহার করতেন। সি চিন পিং সেই প্রথা ভেঙেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের ‘দ্য বিস্ট’-এর মতো এখন তিনি যেখানেই যান, নিজস্ব সাঁজোয়া গাড়ি বিমানে করে সঙ্গে নিয়ে যান। এর আগে রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও মিসর সফরেও এই গাড়ি ব্যবহার করেছেন তিনি।
প্রায় ১৮ ফুট দীর্ঘ এই লিমোজিনের বিস্তারিত প্রযুক্তি ভীষণভাবে গোপনীয় রয়েছে। এর বাইরের কাঠামো তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে সামরিক গ্রেডের পুরু আর্মার প্লেট। জানালার কাচগুলো শতভাগ বুলেটপ্রুফ। ভারী অ্যাসল্ট রাইফেলের সরাসরি গুলি বা স্নাইপারের আঘাতও এই কাচ ভেদ করতে পারে না।
গাড়ির পাটাতন এমনভাবে তৈরি, যাতে রাস্তার নিচে পেতে রাখা মাইন বা ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) বিস্ফোরিত হলেও আরোহী অক্ষত থাকেন।
গাড়ির কেবিনে রয়েছে স্বয়ংক্রিয় বায়ু পরিশোধনের ব্যবস্থা। ফলে বাইরে কোনো রাসায়নিক বা বিষাক্ত গ্যাস হামলা হলেও কেবিনে বাইরের হাওয়া ঢুকতে পারে না। সার্বক্ষণিক কৃত্রিম অক্সিজেন সরবরাহ চালু থাকে। এ ছাড়া গাড়িটিতে রয়েছে ২১ ইঞ্চির বিশেষ ‘রান-ফ্ল্যাট’ চাকা। গুলিতে টায়ার ছিন্নভিন্ন হয়ে গেলেও গাড়িটি তীব্র গতিতে নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটে যেতে সক্ষম।
কয়েক টন ওজনের এই গাড়িকে দ্রুতগতিতে ছুটিয়ে নিতে এতে ব্যবহার করা হয়েছে শক্তিশালী ভি-১২ ইঞ্জিন। ফলে এটি প্রায় ৪০৮ হর্সপাওয়ার তৈরি করতে পারে। চীনে আগামী এক দশকে এই মডেলের মাত্র ৫০টির মতো গাড়ি তৈরি করা হবে, যা শুধু শীর্ষ পর্যায়ের রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যবহার করা হবে।
বিশ্বমঞ্চে স্বদেশের তৈরি এমন দুর্ভেদ্য বাহন নিয়ে চীনা প্রেসিডেন্টের হাজির হওয়ার পেছনে রয়েছে গভীর কূটনৈতিক বার্তা। সি চিন পিং এর মাধ্যমে বিশ্বকে দেখিয়ে দিচ্ছেন, চীন এখন আর কারও প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং তারা নিজেরাই এক স্বয়ংসম্পূর্ণ পরাশক্তি।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category