• বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৪৩ অপরাহ্ন
Headline
আকস্মিক বন্যায় নেপাল–তিব্বতে মৃত্যু বেড়ে ১৭৭, নিখোঁজ ১৫০০ ২৭ বছর পর বিচারের সম্মুখীন হচ্ছেন ৯/১১ হামলার ‘মাস্টারমাইন্ড’ খালিদ নিউইয়র্কে আরএসএস প্রধানের অনুষ্ঠানের বিরোধীতা মামদানির মক্কা জোটের পর এবার ফ্রান্সের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর সৌদির বড় চাকরি ছেড়ে কৃষিতে নামা লোকটির এখন বছরে আয় ৮০০ কোটি টাকা নেপাল-তিব্বতের বন্যা ট্র্যাজেডিতে দালাই লামার শোক প্রকাশ পুরোনো যন্ত্রপাতি ঘোষণা দিয়ে আনা হলো বিলাসবহুল বিএমডব্লিউ, লেক্সাস, রেঞ্জ রোভার গাড়ি চলমান গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে হালকা-মাঝারি উদ্যোক্তারা বিপাকে ইরানে নাগালের বাইরে নিত্যপণ্য-ওষুধ; মাংস খাওয়া বাদ দিচ্ছে পরিবারগুলো উৎপাদনে ফিরেছে আরএকে সিরামিকসের লাইন-৩

আকস্মিক বন্যায় নেপাল–তিব্বতে মৃত্যু বেড়ে ১৭৭, নিখোঁজ ১৫০০

Reporter Name / ৪ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬

প্রভাত ডেস্ক: নেপালের মধ্যাঞ্চলীয় বাগমাতি প্রদেশের রসুয়া ও পার্শ্ববর্তী কয়েকটি জেলায় দুর্যোগে এ পর্যন্ত ১৭৭ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। খবর বিবিসির। রয়টার্সের খবরে নেপালের পর্যটন কর্মকর্তা ও পুলিশ জানায়, নেপাল ও তিব্বতে এ পর্যন্ত ১৫০০ জন নিখোঁজ রয়েছে। এর মধ্যে ৮০০ জনের বেশি বিদেশি পর্যটক।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নেপালে অন্তত ৫৪ জন মার্কিন পর্যটক নিখোঁজ হয়েছেন। নেপালের রাসুয়া জেলায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের পরিবার ও প্রিয়জনদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্র গভীর সমবেদনা জানিয়েছে। নেপালকে ৫ লাখ ডলারের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বন্যাকবলিত জনগোষ্ঠীর জন্য জরুরি আশ্রয়, পানি, স্যানিটেশন ও অন্যান্য ত্রাণসামগ্রী সরবরাহে এই অর্থ ব্যয় করা হবে।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ জানান, ৩৪ জন অস্ট্রেলীয় নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। এ ঘটনায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের ১০৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন। এর মধ্যে কলকাতার ৩২ জন।
নেপালি পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬৫ হয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ৬৪ জনের মরদেহ ভাটির দিকে চিতওয়ান জেলায় এবং আরও ২৬ জনের মরদেহ ইস্ট নওয়ালপরাসি জেলায় পাওয়া গেছে।
হিমালয় পর্বতমালায় হিমবাহের বরফ ও বিশাল শিলাখণ্ড ধসে একটি নদীর গতিপথ রুদ্ধ হয়ে তৈরি হওয়া আকস্মিক প্রলয়ঙ্করি বন্যায় লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে নেপাল এবং চীনের তিব্বত সীমান্ত। বুধবারের এই মর্মান্তিক বিপর্যয়ে এখন পর্যন্ত ১৬৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে পুলিশের তথ্য মতে, নেপাল ও তিব্বতজুড়ে এখনও প্রায় ১,৫০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, যার মধ্যে অন্তত ৮০০ জনই বিশ্বের দুই ডজনেরও বেশি দেশের নাগরিক। খবর রয়টার্স।

নেপালের অভ্যন্তরীণ এলাকা এবং তিব্বতের রাজধানী লাসা ও কাঠমান্ডুকে সংযোগকারী গিরিপথে এই দুর্যোগ আঘাত হানে। এ সময় এলাকাটিতে অসংখ্য হাইকার, ট্র্যাকার এবং হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী কৈলাশ মানস সরোবরগামী পুণ্যার্থী অবস্থান করছিলেন।
নেপাল পুলিশ ও পর্যটন বিভাগ জানিয়েছে, দেশে নিখোঁজ ৮২৬ জনের মধ্যে প্রায় ৬০০ জনই বিদেশি পর্যটক। এর মধ্যে রয়েছে ভারতের ১৭৭ জন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৬৩ জন, অস্ট্রেলিয়ার ৩৪ জন, ব্রিটেনের ৩৩ জন ও কানাডার ২৫ জন নাগরিক। অন্যদিকে চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিব্বতের জিরোং কাউন্টিতেই ২৫০ জন বিদেশিসহ ৫৮৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ও যাচাইকৃত ভিডিওতে দেখা গেছে, বিশাল কাদার তোড় মুহূর্তের মধ্যে তিব্বত-নেপাল সীমান্ত ক্রসিং ধ্বংস করে শত শত মানুষকে ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। জিরোং পয়েন্টে বহুতল ভবন, ধাতব ব্রিজ, সড়ক ও বিদ্যুৎকেন্দ্র খড়কুটোর মতো ভেসে গেছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৬৮ বছর বয়সী বেঁচে যাওয়া কেশব প্রসাদ বারাল আকুতি জানিয়ে বলেন, “বিশাল কাদার স্রোত সোজা আমাদের দিকে আসছিল। আমি স্ত্রীর হাত ধরে ছাদে ওঠার চেষ্টা করছিলাম, কিন্তু চোখের সামনে ও কাদার মধ্যে তলিয়ে গেল। চার ঘণ্টা পর হেলিকপ্টার আমাকে উদ্ধার করে, কিন্তু আমার স্ত্রী আর নেই।” আরেক ভুক্তভোগী জানান, তিনি একটি আমগাছ আঁকড়ে ধরে রক্ষা পান, যেখান থেকে দাঁড়িয়ে তিনি তাঁর কর্মস্থল ভবনটিকে মাটির নিচে বিলীন হতে দেখেন।
প্রথমে এটিকে ভূমিকম্পের ধাক্কা মনে করা হলেও, যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস), প্রাথমিক ৪.৪ মাত্রার কম্পনটি মূলত ছিল পাহাড় থেকে বরফ ও বিশাল শিলাখণ্ড ভেঙে নিচে পড়ার কম্পন তরঙ্গ। হিমবাহ ধসে নদী আটকে গিয়েই এই প্রলয়ঙ্করি প্লাবণের সৃষ্টি হয়।
নেপাল সেনাবাহিনী ও পুলিশের ৫,০০০-এরও বেশি সদস্য হেলিকপ্টারে করে বন্যাকবলিত দুর্গম অঞ্চলে খাদ্য, তাবু ও জরুরি ওষুধ পৌঁছে দিচ্ছেন। নেপালকে জরুরি ত্রাণ হিসেবে ৫ লাখ ডলার ও বিশেষজ্ঞ পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এর পাশাপাশি জাতিসংঘ এবং ভারতের পক্ষ থেকেও জরুরি ত্রাণ পৌঁছানো শুরু হয়েছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ও অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজও এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিব্বতের উজানে একটি কৃত্রিম হ্রদ এখনো আটকে থাকায় সেখানে পুনরায় বিপর্যয় ঘটার আশঙ্কা করছে চীনা কর্তৃপক্ষ, যা উদ্ধারকাজকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category