• মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২৭ অপরাহ্ন
Headline
‘পেঁয়াজের ঝাঁজ’, ‘মরিচের ঝাল’ লিখে অযথা আতঙ্ক ছড়াবেন না : বাণিজ্য পরামর্শক নতুন পে-স্কেল ‘ঐতিহাসিক’, সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা রাজধানীর কদমতলীর গৃহবধূ ঊর্মী হত্যা মামলার ন্যায় বিচারের দাবি ভুক্তভোগী পরিবারের শেখ সেলিমসহ পরিবারের ৪ জনের সম্পদ বিবরণী টানানোর নির্দেশ বোয়িং কেনার সিদ্ধান্তে প্রধানমন্ত্রীকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ধন্যবাদ অতীত ভোলা যায় না, তবে অতীতে আটকে থাকাও যায় না: দীনেশ ত্রিবেদী বহুদলীয় গণতন্ত্রই নয়, সংসদীয় গণতন্ত্রও বিএনপির হাত ধরে এসেছে: প্রধানমন্ত্রী মবের অপসংস্কৃতি শক্তভাবে মোকাবিলা করব: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চার শর্ত পূরণ না হলে প্রকল্প অনুমোদন নয়: অর্থমন্ত্রী উপযুক্ত সময়ে প্রধানমন্ত্রী অবশ্যই ভারত সফর করবেন : হুমায়ুন কবির

পাহাড়ে বিদ্যুৎ নেটওয়ার্কে ২ হাজার ১৪৮ কোটি টাকা অনুমোদন এডিবির

Reporter Name / ২ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

প্রভাত রিপোর্ট: পাহাড়ে বিদ্যুৎ নেটওয়ার্কের জন্য ১৭ দশমিক ৫ কোটি ডলার অনুমোদন করেছে এশীয় উন্নয়ন বাংক (এডিবি)। প্রতি ডলার সমান ১২২ টাকা ৭৯ পয়সা ধরে বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ২ হাজার ১৪৮ কোটি টাকা। এডিবি চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলে বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক আধুনিকীকরণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও সেবার উন্নয়নেও অবদান রাখবে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সংস্থাটির ঢাকা অফিস থেকে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞাপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বাংলাদেশের দুর্গম চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলে নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী বিদ্যুতের প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবিকা বৃদ্ধি, অত্যাবশ্যকীয় সেবার উন্নয়ন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে এই ঋণ ব্যবহার করা যাবে।
‘টেকসই জ্বালানি উন্নয়ন ও চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলে সম্প্রদায়ের ক্ষমতায়ন’ শীর্ষক এই প্রকল্পের অধীনে খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান এই তিন পার্বত্য জেলার ২৬টি দুর্গম উপজেলায় বিদ্যুৎ বিতরণ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণ করা হবে। এর ফলে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ৩৫ হাজার পরিবারসহ অন্তত ৮৮ হাজার অতিরিক্ত পরিবার সরাসরি উপকৃত হবে।
এই প্রকল্পের আওতায় ৮০ মেগাভোল্ট-অ্যাম্পিয়ার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন নতুন ছয়টি ৩৩/১১ কেভি সাবস্টেশন স্থাপন করা হবে।৫ হাজার ৩২ কিলোমিটার বিতরণ লাইন নির্মাণ করা হবে এবং ১ হাজার ৮৭৪ কিলোমিটার পুরোনো বিতরণ লাইন, চারটি সাবস্টেশন, একটি সুইচিং স্টেশন ও একটি আঞ্চলিক মেরামত কারখানা সংস্কার করা হবে। এই উন্নয়নমূলক পদক্ষেপগুলোর ফলে সিস্টেম লস ও পরিচালনা ব্যয় হ্রাস পাবে, গ্রিডের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে, প্রতি বছর অন্তত ১৯,৩০০ টন কার্বন ডাই অক্সাইড সমতুল্য নির্গমন এড়ানো সম্ভব হবে এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থার সক্ষমতা জোরদার হবে।
বাংলাদেশে এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর কিংফং ঝাং বলেন, ‘কর্মসংস্থান, উদ্যোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামাজিক সহনশীলতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ একটি শক্তিশালী চালিকাশক্তি। এই প্রকল্প চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলের দুর্গম সম্প্রদায়গুলোকে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সুবিধা প্রদানে সহায়তা করবে। পাশাপাশি এটি জীবিকার সুযোগ বৃদ্ধি করবে, নারীদের অংশগ্রহণকে ত্বরান্বিত করবে এবং একটি টেকসই ও নিম্ন-কার্বন ভবিষ্যতের দিকে বাংলাদেশের রূপান্তরকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।’
চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলে প্রায় ১৮.৪ লাখ মানুষ বসবাস করেন, যার অর্ধেকেরও বেশি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। সমগ্র বাংলাদেশে শতভাগ (৯৯%) জাতীয় বিদ্যুৎ সুবিধা অর্জিত হলেও এই অঞ্চলে গ্রিড সংযোগের হার তুলনামূলকভাবে বেশ কম: খাগড়াছড়িতে ৪৯%, রাঙ্গামাটিতে ৪৩% এবং বান্দরবানে ৪১%। ২০৩২ সালের মধ্যে এই প্রকল্পটির মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলের গ্রিড সুবিধার হার ৬৮%-এ উন্নীত করা এবং সৌর ও পিকু-হাইড্রোপাওয়ারসহ ভবিষ্যতের নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সামাজিক উন্নয়নের অংশ হিসেবে প্রকল্পটি কমপক্ষে ৩০টি সৌরশক্তিচালিত সুপেয় পানি সরবরাহ সুবিধা স্থাপন করবে, যা স্থানীয় কমিউনিটি সংস্থাগুলো পরিচালনা করবে এবং এর নেতৃত্বপর্যায়ে অন্তত ৩০% নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী অধ্যুষিত এলাকার স্কুল, হাসপাতাল, মন্দির ও ক্লিনিকসহ অন্তত ২০টি প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য সোলার ব্যাকআপ সিস্টেম স্থাপন করা হবে।
এডিবি জানায়, প্রকল্পটি সাধারণ মানুষের আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করবে; যেখানে অন্তত এক হাজার জনকে জীবিকায়ন প্রশিক্ষণ, ২০০ জনেরও বেশি উদ্যোক্তাকে বিজনেস ইনকিউবেশন সহায়তা এবং ৩০০ শিক্ষার্থীকে জ্বালানি খাতের ক্যারিয়ার ও দুর্যোগ-সহনশীল শক্তি ব্যবস্থা সম্পর্কিত ওরিয়েন্টেশন প্রদান করা হবে। এটি সেবাদান প্রক্রিয়াকে জোরদার করতে তিনটি গ্রাহক অভিযোগ কেন্দ্র এবং ডিজিটাল মনিটরিং সুবিধাসহ তিনটি ডে-কেয়ার (শিশু পরিচর্যা) কেন্দ্র স্থাপন করবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) কর্মচারীদের গ্রাহকসেবা, বিতরণ পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ, সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং সহনশীল প্রযুক্তির ওপর প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।
এডিবির এই অর্থায়নের পাশাপাশি, এডিবির মাধ্যমে জাপান সরকার কর্তৃক পরিচালিত ‘জাপান ফান্ড ফর প্রসপারাস অ্যান্ড রেজিলিয়েন্ট এশিয়া অ্যান্ড দ্য প্যাসিফিক’ থেকে ২.৭২ মিলিয়ন ডলারের একটি অনুদান প্রদান করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকার ৩৬.৫৪ মিলিয়ন ডলার এবং বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)-যা প্রয়োগকারী ও বাস্তবায়নকারী সংস্থা হিসেবে কাজ করবে-৪৫.৬৫ মিলিয়ন ডলার অবদান রাখবে।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category