• রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ১১:৪২ অপরাহ্ন
Headline
মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে লালগালিচা সংবর্ধনা বিএনপির সংসদ সদস্যের ছেলেকে আটক করল পুলিশ ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের মামলায় দুই দিনের রিমান্ডে জিসান সাঘাটায় স্কুল কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বে ছাত্রশিবির নেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা সাবেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সৎ বোন ও মাকে ঘরছাড়া করার অভিযোগ কচুয়ায় বিএনপি নেতা সরদার জাহিদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ বাবাকে নিয়ে যে গানগুলো আজও ছুঁয়ে যায় হৃদয় ৮ হাজার টাকা আয় করে ৪ হাজার দিতেন স্কুল বেতন, বাবার স্মরণে আবেগী তৌসিফ বাবার ভরসার হাতটা চলে গেলে বোঝা যায় পৃথিবী কত ফাঁকা: চঞ্চল চৌধুরী ‘মানুষ আজও তাঁকে মনে রেখেছে’, বাবাকে নিয়ে ফাহমিদা নবী

আমদানিকৃত টায়ারে ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি আমদানিকারক ও ডিলারদের

Reporter Name / ৪ Time View
Update : রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬

প্রভাত রিপোর্ট: বাণিজ্যিক যানবাহনের টায়ারের ওপর প্রস্তাবিত ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক (এসডি) প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন টায়ার আমদানিকারক, ডিলার এবং পরিবহন পরিচালনাকারীরা। তাদের আশঙ্কা, এই সিদ্ধান্তের কারণে পরিবহন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং তা চলমান মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন করে বাড়তি চাপ তৈরি করবে।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, প্রস্তাবিত এই শুল্কের মূল উদ্দেশ্য হলো কতিপয় স্থানীয় উৎপাদককে সুরক্ষা দেওয়া, যারা দেশের মোট চাহিদার মাত্র ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পূরণ করতে পারে। অথচ এর মাধ্যমে বাজারের বাকি ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ সরবরাহকারী এবং আমদানিনির্ভর খাতের ওপর এক বিশাল করের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। রবিবার (২১ জুন) চট্টগ্রামের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে ‘চট্টগ্রাম টায়ার টিউব ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স গ্রুপ’ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পরিবহন মালিক সমিতির প্রতিনিধিরাও উপস্থিত থেকে এই দাবির প্রতি একাত্মতা ও সমর্থন জানান। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এইচএস কোড ৪০১১.২০.১০-এর আওতায় বাণিজ্যিক যানবাহনের টায়ারের ওপর ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে এই জাতীয় টায়ারের ওপর মোট করের হার বর্তমানের ৬৪.২৫ শতাংশ থেকে লাফিয়ে একবারে ৯৬.১০ শতাংশে গিয়ে দাঁড়াবে।
গ্রুপের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠকালে সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এই পদক্ষেপের ফলে আমদানি ব্যয় ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে, যার চূড়ান্ত প্রভাব পড়বে পুরো দেশের পরিবহন খাতের খরচের ওপর। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ এখনও বাণিজ্যিক যানবাহনের টায়ারের জন্য সম্পূর্ণভাবে আমদানির ওপর নির্ভরশীল। তিনি বলেন, ‘দেশের বাণিজ্যিক যানবাহনের টায়ারের চাহিদার প্রায় ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশই আমদানির মাধ্যমে পূরণ হয়। যারা চাহিদার মাত্র ১০ থেকে ১৫ শতাংশ সরবরাহ করে, সেই স্থানীয় উৎপাদকদের সুবিধা দিতে গিয়ে দেশের একটি বিশাল বাজারের ওপর এমন অতিরিক্ত কর আরোপ করা কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়।’
টায়ার কোনো বিলাসবহুল পণ্য নয়, বরং দেশের পরিবহন ও লজিস্টিকস (পণ্য পরিবহন ও সরবরাহ) ব্যবস্থার একটি অপরিহার্য উপাদান—এমন যুক্তি দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘ট্রাক, বাস, কাভার্ড ভ্যান, পিকআপ, কৃষি যন্ত্রপাতি এবং শিল্পকারখানার যানবাহন—সবই টায়ারের ওপর নির্ভরশীল। টায়ারের দাম বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই যান পরিচালন ব্যয় বাড়বে এবং এর সামগ্রিক প্রভাব পড়বে দেশের অর্থনীতির ওপর।’
টায়ার আমদানিতে আন্ডার-ইনভয়েসিং (কম মূল্য দেখানো) এবং শুল্ক ফাঁকির অভিযোগের জবাবে মঈন উদ্দিন বলেন, ‘আমদানিকৃত প্রতিটি টায়ার শতভাগ কায়িক পরীক্ষা (ফিজিক্যাল এক্সামিনেশন) এবং ওজনের ওপর ভিত্তি করে শুল্কায়ন করা হয়। ফলে এখানে কর ফাঁকি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত পরিবহন খাতের প্রতিনিধিরা সতর্ক করে জানান, টায়ারের দাম বাড়লে পণ্য ও যাত্রীবাহী উভয় যানবাহনের পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি পাবে, যা শেষ পর্যন্ত পরিবহন ভাড়া এবং লজিস্টিকস খরচ বাড়িয়ে দেবে।
ইগল পরিবহনের সভাপতি আক্তার হোসেন বলেন, ‘পরিবহন খরচ বৃদ্ধি সরাসরি বাজারের পণ্যের দামের ওপর প্রভাব ফেলে।’ তার ভাষায়, ‘পরিবহন খাতের যেকোনো বাড়তি খরচ শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তার পকেট থেকেই যায় এবং পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়।’
চট্টগ্রাম প্রাইম মুভার অ্যান্ড ফ্ল্যাটবেড ট্রেইলার অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহসভাপতি মোর্শেদ হোসেন নিজাম টায়ারকে পরিবহন খাতের অন্যতম প্রধান পরিচালন উপাদান হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ‘টায়ারের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপের কারণে পরিবহন মালিকদের ব্যবসা পরিচালনার খরচ মারাত্মকভাবে বেড়ে যাবে।’
আন্তঃজেলা ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতির বন্দর বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ শামসুজ্জামান সুমন বলেন, ‘পরিবহন খরচ বেড়ে গেলে তা সরাসরি সাপ্লাই চেইন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যের ওপর আঘাত হানবে৷’
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অর্থনীতির ওপর এর বহুমাত্রিক নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে সতর্ক করে বলেন, ‘পরিবহন খরচ বাড়লে পর্যায়ক্রমে কৃষিপণ্য, নিত্য ভোগ্যপণ্য এবং শিল্পের কাঁচামালের দাম বেড়ে যাবে; যার চূড়ান্ত বোঝা বইতে হবে দেশের সাধারণ জনগণকে।’তারা সরকারের প্রতি প্রস্তাবিত সম্পূরক শুল্ক পুনর্বিবেচনা বা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। একই সাথে যেকোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করার আগে সংশ্লিষ্ট খাতের অংশীজনদের সাথে আলোচনা করার এবং রাজস্ব আদায় ও বাজার স্থিতিশীলতার মধ্যে একটি ভারসাম্য বজায় রাখার অনুরোধ করেন।
সমাপনী বক্তব্যে চট্টগ্রাম টায়ার টিউব ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স গ্রুপের সভাপতি মঈন উদ্দিন বলেন, ‘প্রস্তাবিত এই শুল্কের ক্ষতিকর প্রভাব শুধু পরিবহন খাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না।’ তিনি যোগ করেন, ‘টায়ারের ওপর অতিরিক্ত করের প্রভাব কৃষি, শিল্প এবং সাধারণ ভোক্তা—সবার ওপর সমানভাবে পড়বে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখার স্বার্থে সরকারের উচিত এই প্রস্তাবটি পুনরায় পর্যালোচনা করা।’


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category