প্রভাত ডেস্ক: ইউরোপের পাহাড়ি অঞ্চলে থাকার অভিজ্ঞতা এখন শুধু আধুনিক হোটেলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। কোথাও শত বছরের পুরোনো রেলস্টেশন নতুন রূপে ফিরে এসেছে, আবার কোথাও দেড় শতাব্দীরও বেশি পুরোনো ঐতিহাসিক হোটেল এখনও পাহাড়প্রেমীদের স্বাগত জানাচ্ছে। অস্ট্রিয়ার টাইরল থেকে নরওয়ের জোটুনহেইমেন—এমন দুটি ব্যতিক্রমী আবাসন হতে পারে প্রকৃতি ও ইতিহাসপ্রেমী ভ্রমণকারীদের আকর্ষণের কেন্দ্র।
অস্ট্রিয়ার টাইরল অঞ্চলের লেরমুস শহরের পুরোনো রেলস্টেশনটি নির্মিত হয়েছিল ১৯১০ সালে। দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকার পর ২০১৯ সালে ভবনটি কিনে নেন ইয়োহান এমান ও তার স্ত্রী ক্লিও ভেবার।
ভবনটির প্রতি শুরু থেকেই তাদের বিশেষ আগ্রহ ছিল। এটি বিক্রির জন্য দেওয়া হয়েছে কি না জানতে তারা পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে অস্ট্রিয়ান রেলওয়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করেছেন। অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান হয়।
জার্মানির সর্বোচ্চ পর্বত জুগস্পিৎসের পাদদেশে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী আল্পাইন রেলস্টেশনটিকে দম্পতি রূপ দেন ‘লেরমুসার’ নামে একটি নকশাধর্মী বি অ্যান্ড বি-তে।
বর্তমানে এখানে রয়েছে মোট আটটি কক্ষ। ছোট ও আরামদায়ক বাঙ্ক-বেডের ‘কেবিন’ থেকে শুরু করে বড় ‘টিম এক্সএল’ কক্ষে রয়েছে পাশাপাশি তিনটি সিঙ্গেল বেড ও একটি ডাবল বেড।
অতিথিদের জন্য নিচতলায় রয়েছে কমন কিচেন। পাশাপাশি ছোট একটি কিয়স্কে পাওয়া যায় কফি, পেস্ট্রি ও ঘরে তৈরি স্যুপ। এই আবাসনের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ অবশ্য এর অবস্থান। পুরোনো স্টেশনের ঠিক বাইরেই এখনো ট্রেন থামে। ফলে গাড়ি ছাড়াই আশপাশের পাহাড়ি এলাকায় ঘুরে বেড়ানো যায়।
হাইকিংপ্রেমীদের জন্যও লেরমুসার বেশ আকর্ষণীয়। এখান থেকেই সরাসরি শুরু করা যায় টুফটল আলম ভিউপয়েন্ট, জিবেনসি ও ড্রাখেনসি হ্রদের পথে পাহাড়ি হাঁটা।
অর্থাৎ, একসময়ের পরিত্যক্ত রেলস্টেশনটি এখন একই সঙ্গে ঐতিহ্য, আধুনিক নকশা ও আল্পাইন প্রকৃতির অভিজ্ঞতা নেওয়ার ব্যতিক্রমী ঠিকানা।
থাকার খরচ: সকালের নাশতাসহ দুইজনের জন্য প্রতি রাত ১০৬ পাউন্ড থেকে।