• রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:২৫ অপরাহ্ন

মিরপুর, কালিয়াকৈর ও আশুলিয়ায় গার্মেন্টস কর্মীদের আন্দোলনে চরম ভোগান্তি

Reporter Name / ১৫ Time View
Update : শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬

প্রভাত রিপোর্ট: গার্মেন্টস শ্রমিকদের আন্দোলনের কারণে রাজধানীর মিরপুরের কয়েকটি এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। শনিবার (৩১ অক্টোবর) মিরপুর-১০, মিরপুর-১১, মিরপুর-১২ ও প্রশিকা মোড় এলাকায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ট্রাফিক মিরপুর বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শ্রমিকদের আন্দোলনের কারণে এসব এলাকায় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সদস্যরা কাজ করেছেন। এ অবস্থায় এসব এলাকা দিয়ে চলাচলকারী যানবাহনের চালক ও যাত্রীদের হাতে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে বের হওয়ার এবং চলাচলের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানায় মিরপুর ট্রাফিক বিভাগ।
এদিকে বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে দ্বিতীয়বারের মতো ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। চরম ভোগান্তিতে পড়েন হাজারো মানুষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করেন শ্রমিকরা। এ সময় সড়কে মাটিভর্তি বস্তা, কাঠ ও বাঁশ ফেলে আগুন ধরিয়ে দেন তারা। এতে সড়কের ৭ কিলোমিটার অংশ যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
শ্রমিকরা জানান, বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে কয়েক দিন ধরেই কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়ে আসছেন তারা। তবে কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না নেয়ায় শ্রমিকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে কর্মবিরতি শুরু করেন। একপর্যায়ে আন্দোলনে নামেন তারা।
এদিকে, শনিবার সকালে প্রথম দিনের ভাঙচুর ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির বিষয়ে শ্রমিকদের সচেতন করতে সড়ক পরিবহন ও শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবীর খান একটি সভা করেন। সভা শেষ হওয়ার পরপরই বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা সড়কে নেমে অবরোধ শুরু করেন।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, শ্রমিকরা সড়কে নেমেছেন। তাদের শান্ত করতে আমরা ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত হয়েছি। আমাদের সাথে শিল্প পুলিশও রয়েছে। সড়ক ছেড়ে দেয়ার জন্য আমরা শ্রমিক ও মালিক পক্ষের সাথে কথা বলেছি।
অপরদিকে সাভারের আশুলিয়ায় ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম বেতন, শ্রমিকদের কালো তালিকা তৈরি বন্ধ এবং শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধের দাবিতে শ্রমিক অসন্তোষ দেখা গিয়েছে। এতে আশুলিয়ায় অন্তত ২০টি পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। সরেজমিনে শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে সাভারের আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর, কাঠগড়া, জিরাবো ও নরসিংহপুর এলাকায় থমে থমে পরিস্থিতি দেখা গেছে।
জানা যায়, সকালে আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর নিউ এইজ অ্যাপারেলস ও নিউ এইজ গামের্ন্টস ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা, শ্রমিকদের কালো তালিকা বন্ধ এবং শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধের দাবিতে কর্মবিরতি পালন শুরু হয়। পরে আল-মুসলিম, কন্টিনেন্টাল ও কাঠগড়া এলাকার এআর জিন্স, নাঈম সোয়েটার, নরসিংহপুরে এফএনএফ গামের্ন্টস এবং জিরাবো এলাকার টাউজার লাইন পোশাক কারখানা শ্রমিকরাও বিক্ষোভ করেন।
এদিন দুপুরে আশুলিয়ার নিশ্চিতপুর এলাকায় পোশাক কারখানার শ্রমিকরা জড়ো হয়। এসময় পুলিশ পোশাক শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করলে পুলিশকে লক্ষ্য করে শ্রমিকরা ইটপাটক্ষেল নিক্ষেপ করে। এতে শিল্পপুলিশের অন্তত পাঁচ জন পুলিশ আহত হয়। অপরদিকে পোশাক কারখানার বেশ কয়েকজন পোশাক শ্রমিক আহত হয়েছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিউ এইজ অ্যাপারেলসের এক শ্রমিক জানান, বর্তমানে সবকিছুর দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু আমাদের বেতন বৃদ্ধি পায়নি। যদি আমাদের বেতন বৃদ্ধি না পায়, তাহলে আমরা পরিবার নিয়ে কীভাবে চলব বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড সোয়েটার শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টু জানান, সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল মজুরি বোর্ড গঠন করবে এবং অক্টোবরের মধ্যে নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা করবে। কিন্তু ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করেনি। এ কারণে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে বলে জানান তিনি। আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, শ্রমিকরা উত্তেজিত হলে পুলিশ পরিস্থিতি স্বাভাবিকের চেষ্টা করে। এসময় উত্তেজিত শ্রমিকরা পুলিশের ওপর হামলা করলে পাঁচ জন পুলিশ আহত হয়। তবে দুপুরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ২০টি পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) হারুন অর রশিদ জানান, সকাল থেকে জিরাবো, নিশ্চিতপুর ও কাঠগড়ায় পোশাক শ্রমিক বিক্ষোভ ও কর্মবিরতি পালন করে। তবে দুপুরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে বলে জানান তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category